নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ‘যাদুকাটা-১’ ও ‘যাদুকাটা-২’ বালুমহালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য ইজারাগ্রহীতাদের সরেজমিনে দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত ১৯ অক্টোবর জারি করা পৃথক সরকারি আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার ১৯ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ রিপামনি বেবী সরেজমিনে যাদুকাটা নদীর বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এ সময় তিনি নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন না করার বিষয়ে সতর্ক করে জানান, আইন অমান্য করে কেউ সীমানা অতিক্রম করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং যাদুকাটা নদীর ইজারাদার নাসির মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সীমানা নির্ধারণ ও নদীর দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর ইজারাদার নাসির মিয়া জানান, দীর্ঘ এক মাস নদীতে বালু উত্তোলন ও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন এবং কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, দুই বালুমহাল থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মোট ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা। এর মধ্যে যাদুকাটা-১ বালুমহাল থেকে ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৯ টাকা এবং যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে ২৬ কোটি ৮৩ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ টাকা জমা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বালুমহাল দুটি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ এক মাস বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদীর দুই পাড়ের শ্রমিক, নৌকার মাঝি ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েন এবং কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমতি বাতিল করা হলে ইজারাগ্রহীতারা পরিশোধিত অর্থ ফেরত দাবি করতে পারবেন না এবং মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন কিংবা আদালতে মামলা করার সুযোগ থাকবে না।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর