নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিবার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন সকালে নিজ বাসস্থান ছেড়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা অঞ্চলে নিজের দাদার বাসার পথে রওনা হন আবুল বাশার। পরবর্তীতে তিনি পরিচিত এক ব্যক্তির বাসায় অবস্থান করছেন বলে আত্মীয়স্বজনদের অবিহিত করেছিলেন। এর কিছু সময় পর তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত সোমবার নিখোঁজ শিক্ষকের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে ফোন কল আসে। ওই সময় শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়ে দুই কিস্তিতে সর্বমোট কুড়ি হাজার টাকা দাবি করা হয়। শিক্ষক পত্নী তাঁর স্বামী বর্তমানে কোথায় আছেন তা জানতে চেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
কথোপকথনের একপর্যায়ে বিছানায় শায়িত থাকা অবস্থায় আবুল বাশারের একটি ছবি তাঁর স্ত্রীর নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা না হলে নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যাবে বলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রান্তিক নম্বরটি থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় ভুগে স্বজনেরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বা ভৌগোলিক অবস্থান ট্র্যাক করার প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এই বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর