নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফেসবুকে মৃত্যুর জন্য জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত শনিবার বিকালের দিকে পরিবারের সদস্যরা সিলেটের চিকিৎসালয় থেকে তাঁকে নিয়ে এসে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এসি ল্যান্ডের শারীরিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে ভালো রয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর শ্বশুর মহসিন মিয়া।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড দাপ্তরিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট করেন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। এর একটিতে তিনি লেখেন যে তাঁর মৃত্যুর পেছনে শিল্পী রানী মোদক দায়ী থাকবেন এবং অপর পোস্টে তিনি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বার্তাগুলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী ও তাঁর অন্যান্য সহকর্মীরা দ্রুত তাঁর সরকারি বাসভবনে গিয়ে উপস্থিত হন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে প্রথমে জামালগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সিলেট থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া পরামর্শ এবং মতামতের ওপর ভিত্তি করে শনিবার বিকেলে তাঁর নিকটাত্মীয়রা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন। সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, তাঁরা নিয়মিতভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ওই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও জানান যে ঘটনাস্থলে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের জেলা প্রশাসনের লোকজনও সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন। তিনি সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে আসার পরেই কেবল বিগত শুক্রবার রাতের আকস্মিক এই ঘটনার নেপথ্য কারণ বিস্তারিতভাবে জানা সম্ভব হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান গত প্রায় দুই মাস যাবত সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা সদরের একটি বাসায় বসবাস করেন।
ফেসবুকে এমন বিস্ফোরক পোস্ট দেওয়ার প্রসঙ্গে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, প্রথমে তাঁর কাছে তথ্য এসেছিল যে সহকারী কমিশনারের মুঠোফোনটি হ্যাক করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে এসি ল্যান্ডের স্ত্রী তাঁকে ফোন করে নিশ্চিত করেন যে ফোন হ্যাক হয়নি, বরং আরিফুর রহমান নিজেই ওই পোস্টগুলো করেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী সেগুলো সামাজিক মাধ্যম থেকে ডিলিট করে দেন।
পোস্টে নিজের নাম উল্লেখ করার কারণ সম্পর্কে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন যে এই প্রশ্নটি তাঁর নিজেরও মনে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং তিনিও বিষয়টি সম্পূর্ণ বুঝতে অপারগ। তিনি আরও জানান যে ওই ফেসবুক বার্তা প্রকাশের মাত্র ছয় মিনিট পূর্বেও আরিফুর রহমান তাঁর বাসায় এসেছিলেন, আর তাই তিনি সুস্থ হয়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরে এলে তাঁরা উভয়ে কথা বলবেন এবং পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর