ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে পিপলস মার্চ, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভে আটক শতাধিক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
দিল্লিতে পিপলস মার্চ, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভে আটক শতাধিক ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শুক্রবার বিকেলে ভারতীয় রাজধানীর বুকে নাগরিক অধিকার রক্ষা ও শাসনব্যবস্থা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘পিপলস মার্চ’ অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুসারে এই জমায়েতে বড়সংখ্যক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেলেও শত শত জনতা এতে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে যথেষ্ট নমনীয় ও সংযত আচরণ করতে দেখা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও কোনো প্রকার হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আয়োজকদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম আগাম অনুমতি নেননি এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচন কমিশনের মূল দপ্তরের অভিমুখে যাত্রা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। পুলিশ বাধা প্রদান করলে তারা সড়কে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং কোনো অবস্থাতেই সহিংসতায় জড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর কনট প্লেস অঞ্চলের একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের সন্নিকটে প্রতিবাদকারীরা জমায়েত হন। সেখান থেকে মাত্র এক হাজার মিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে তাঁদের অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল। এই কারণে সংশ্লিষ্ট পুরো এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছিল।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক আধা সামরিক বাহিনী, বিশেষ বাহিনী, নারী পুলিশ এবং বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য জলকামানবাহী গাড়ি। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি, কারণ ব্যারিকেড দেওয়া মাত্রই প্রতিবাদকারীরা সেখানে থেমে যান।

এদিনের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বামপন্থী দলসমূহ, কৃষক সংগঠন ও সুধী সমাজ। মূল আয়োজকেরা জোটের নেতাকর্মীসহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্বকে উপস্থিত থাকার জন্য প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর স্বামী ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এই অভিযানে সামিল হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে সিপিএম নেত্রী, সিপিআই নেত্রী, সমাজকর্মী ও যুব ছাত্র আন্দোলনের সহস্রাধিক কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত থাকলেও তাঁদের মধ্যে অনেকেই আসেননি।

গুরুদ্বারের নিকটবর্তী অত্যন্ত পরিচিত একটি চত্বর থেকে সড়ক ধরে সামান্য পথ এগোলেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ওই নির্দিষ্ট সড়কের ওপরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল।

মন্দির মার্গ অঞ্চলের সামনে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদকারীরা নির্দিষ্ট কিছু পদের অধিকারীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সামনের দিকে এগোতে থাকেন।

তাদের কণ্ঠে শোনা যায় বিশেষ স্লোগান এবং তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। এমন দৃশ্য দেখা গেল যে দাঙ্গাবিরোধী পুলিশ বাহিনীও আন্দোলনকারীদের ঠিক পাশ দিয়ে হেঁটে এগিয়ে চলেছে।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মাইকে বিশেষ ঘোষণা দিয়ে সকলকে সতর্ক করেন। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে তারা প্রতিবাদকারীদের আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার বরণ করার আহ্বান জানান।

এর ঠিক পরেই দেখা যায় যে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা পিচঢালা রাস্তার ওপরেই বসে পড়েন। তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে এই লড়াই কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থান পুনরুদ্ধারের নয়, বরং এটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম।

এর পরপরই প্রস্তুত রাখা গাড়ি ও পুলিশের বিশেষ ভ্যানে করে প্রতিবাদকারীদের তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। সন্ধ্যার দিকে প্রশাসনিক সূত্রে সংবাদ প্রকাশ করা হয় যে মোট শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

যে বিশেষ সময়ে এই বিশাল জমায়েত ও মার্চ চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা একটি নির্দিষ্ট থানায় প্রবেশ করেন।

গত সপ্তাহের বুধবার রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরের দিনই তাঁদের বিশেষ শাখার দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে না গিয়ে তাঁরা সময় প্রার্থনা করেছিলেন।

শুক্রবার থানায় প্রবেশ করার পূর্বে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক নেতা জানান যে পরবর্তী তলব কবে আসবে তাঁরা সেই নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই তাঁরা তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন।

কিছু দিন আগে এক নেতা কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে এই উৎসবের মৌসুমে তাঁরা যেন নিজ পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটান। এই বার্তার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ছুটির সময় নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

শুক্রবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, কৃষক নেতা, গান্ধীর বংশধর এবং ছাত্রনেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে তাঁদের অনেকেই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।

তামিলনাড়ুর বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সর্বদলীয় সভার আয়োজন করেছিলেন সে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কমিশনার। তবে সেই বৈঠকে অংশগ্রহণ না করে শাসকদল এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সবাই সভা থেকে ওয়াকআউট করেন।

তাঁরা সংশ্লিষ্ট কমিশনারের পদত্যাগের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে চেন্নাই শহরে হাজার হাজার মানুষের বিশাল মিছিল বের হয়েছিল একই দাবিতে।

ক্ষমতাসীন দলের এক সাবেক সভাপতি সম্প্রতি পদত্যাগ করে নতুন দল গঠন করে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে এই ন্যায়সংগত আন্দোলনের সঙ্গে তারা সহমত পোষণ করেন।

মন্ত্রীপরিষদের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তারা শুরু থেকেই এই বিশেষ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। এই প্রক্রিয়া না থাকলে তাদের দল আরও বেশি আসন লাভ করতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তাজিক ক্লাবকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফর্টিসের মিশন সমাপ্ত

তাজিক ক্লাবকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফর্টিসের মিশন সমাপ্ত