নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সৌদি আরব কর্র্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে দেশটির রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুনরায় অনুমতি পাওয়া মাত্রই এই রুটে বিমান পরিচালনা আবার চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। পাশাপাশি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণকষ্ট লাঘব করতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দাম্মাম অথবা মদিনা রুটে কিছু যাত্রী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে যান বিমানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সরাসরি ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় গিয়ে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং তাদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও লাগেজ হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে যাত্রীরা মন্ত্রীর কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান যে তারা মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই নিজেদের লাগেজ হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বিমানবন্দরে সদ্য চালু হওয়া লাইভ ব্যাগেজ মনিটরিং কার্যক্রমের প্রতিও যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টির কথা ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনগুলোতেও এই সেবার মান একইভাবে বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিমানবন্দরের সার্বিক যাত্রীসেবার মান উন্নত রাখা এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, যাত্রীসেবার মান আরও বাড়ানো, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে এই ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
বিমানবন্দরের এই পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী ছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথা বেবিচকের বিভিন্ন স্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিন অর্থাৎ সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে তিনি বিমানবন্দর চত্বরে উপস্থিত হয়ে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের দুর্ভোগ কমাতে ১৫০টি নতুন ট্রলি হন্তান্তর করেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের মোট তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বমোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি এবং বাকিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি প্রদান করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে একজন ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ করতে যাওয়া যাত্রী। আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই তাদের পবিত্র মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
সৌদি আরবে বর্তমানে আটকে থাকা ওমরাহ যাত্রীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক ওমরাহযাত্রী সেখানে বিপাকে পড়েছেন। যদিও কেউ কেউ বিকল্প বিমান রুটে দেশে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবুও সার্বিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনার কারণে অনেকেই ফিরে আসতে পারছেন না। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
অপরদিকে জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, উচ্চ মজুরি প্রাপ্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপানি সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমান আইনি অধিকার ও সুরক্ষা লাভ করবেন, যা তাদের সার্বিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চুক্তির ভেতরে নারী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো নারী কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি এই সমস্ত কারণে কোনো নারী কর্মীকে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো ধারাও এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
মন্ত্রী শেষ পর্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, উন্নত বেতন নিশ্চিত হবে এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে কর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মনে করেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর