নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গাজীপুর এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, কেবল সেই নির্দিষ্ট কারখানাগুলো খোলা রেখে নিয়মিত উৎপাদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই পুরো শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি এবং কোনো শ্রমিক আন্দোলনেরও খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও বর্তমান পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও পূর্বের মতো আজও বিভিন্ন সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, আজকের দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির হওয়ায় এই জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, যেসকল কারখানায় অর্ডারের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, কেবল সেগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা বা শ্রমিক বিক্ষোভের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাহিনী আগের মতোই বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন আছে।
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার জোরালো দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের নানা স্থানে পোশাক শ্রমিকেরা আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন। ওই সময় কিছু এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন এবং সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফলে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে এক ধরনের তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
উত্তেজনাকর সেই পরিস্থিতি কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সে সময় পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আজকের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অধিকাংশ কারখানায় কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ চলছে। শিল্পাঞ্চলের প্রধান সড়ক ও কারখানার আশপাশের এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে এবং কোথাও কোনো অসন্তোষের খবর নেই।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে এই অঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন শ্রমিকেরা। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক ও সফিপুর থেকে শুরু করে মহানগরের কোনাবাড়ী, ভোগড়া এবং নাওজোড় পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে এমন দাঁড়ায় যে শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। সেই সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়, পাশাপাশি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল। সংঘর্ষের ওই দিনগুলোতে পুলিশ সদস্য, শ্রমিক ও সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর