ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লোকেশন নিয়ে অহংকার করায় হিরোকে চড় মারলেন গ্রাম্য অভিনেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
লোকেশন নিয়ে অহংকার করায় হিরোকে চড় মারলেন গ্রাম্য অভিনেতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

দুই দিনের নায়ক হয়েই ষোলো আনার চেয়ে বেশি এবং প্রায় আঠারো আনা ভাব দেখাতে শুরু করেছে শুটিংয়ের হিরো। তার এই অহংকারী আচরণ এরই মধ্যে পরিচালক রাজু ভাইয়ের মাথা খারাপ করে দিয়েছে। প্রথম দিনই লোকেশনে পা রেখে হিরো ঘোষণা দেয় যে তার এই স্থান পছন্দ হয়নি এবং এমন জায়গায় শুটিং করা সম্ভব নয়। এডি রমজানের তখন একটু ধড়ফড়ানি শুরু হয় এবং সে মেকআপ রুম থেকে লাফিয়ে ডিরেক্টরের কাছে গিয়ে জানায় যে হিরোর লোকেশন পছন্দ হয়নি। ডিরেক্টরের মুখ সঙ্গে সঙ্গে খারাপ হয়ে যায় এবং থুতুর আগেই গালি বেরিয়ে আসে।

পাশে বসে থাকা এক বয়স্ক আর্টিস্ট কোনোমতে চ-বর্গ সামলে মন্তব্য করেন যে হিরো লোকেশনের কী বোঝে এবং সে কি জীবনে কোনো দিন রিয়েল লোকেশনে শুট করেছে কি না। তিনি আরও বলেন যে হিরোর দৌড় তো কেবল উত্তরা আর দিয়াবাড়ি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। হিরো জানিয়ে দেয় যে কাল থেকে সে এই অজগ্রামে আর আসবে না কারণ তার গাড়ি ঢুকাতে ঝামেলা হয় এবং বাতাসে খালি কিসের যেন গন্ধ পাওয়া যায়। সিনিয়র আর্টিস্ট তখন কেশে ওঠেন এবং ডিরেক্টরও দম নিয়ে চেয়ার ছেড়ে নিজের ভুঁড়িটা দুলিয়ে মেকআপ রুমের দিকে এগিয়ে যান।

মেকআপ রুমে গিয়ে দেখা যায় হিরো সাম্পান খানের চুল সেট করা হচ্ছে, যে চুল ঠিক করতে নাকি হিরোইনের চেয়েও বেশি সময় লাগে। ডিরেক্টর ভেতরে ঢোকার পর হিরো একবার তাকিয়ে দেখে যে তার দৃষ্টি সম্পূর্ণ মোবাইলের ওপর এবং সে রিলের রিলে হাসি দিচ্ছে কারণ তার তৈরি রিলগুলোয় লাখ লাখ লাইক পড়ে। ডিরেক্টরের মুখে তখন তেলটে হাসি ও তোয়াজ ফুটিয়ে ওঠে এবং সে জানতে চায় যে হিরোর নাকি লোকেশন পছন্দ হয়নি। জবাবে হিরো বিরক্তি প্রকাশ করে বলে যে এইখানে পছন্দ করার মতো কী আছে এবং জার্নি করতে করতে তার মাজার ব্যথা হয়ে গেছে।

পরিচালক রাজু ভাই বোঝানোর চেষ্টা করেন যে গল্পের জন্য এই লোকেশন একদম পারফেক্ট। কিন্তু হিরো পাল্টা প্রশ্ন করে যে গল্প আবার কে দেখে, কারণ পাবলিক তো তাকেই দেখে। সে হুমকি দেয় যে এইখানে তাকে দেখলে বাতাসে যার গন্ধ পাওয়া যায় পাবলিক সেইটাই তার দিকে ছুড়ে মারবে, তাই যেন শুটিং প্যাকআপ করে ঢাকার আশপাশে লোকেশন ঠিক করে নতুন ডেট নেওয়া হয়। হিরো এরপর নিজের একটা রিল দেখিয়ে বলে যে সে ওইটাতে বলেছে কিসে কোন ভিটামিন আছে এবং কোনটায় সবচেয়ে বেশি ভিটামিন থাকে, যেটায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। সে দাবি করে যে পাবলিক তাকে খায় এবং ডিরেক্টর যেন তা বোঝে।

তিনবারের প্রবল চেষ্টায় পরিচালক নিজের মুখের লাগাম টানেন এবং সুড়ুত করে মুখের থুতু ও বুকের রাগ গিলে ফেলে আবারও দাঁত মেলে দিয়ে বলেন যে পাবলিক তাকে না খেলে আর কাকে খাবে কারণ সে ছাড়া তো আর কোনো হিরোই নেই। হিরো তখন সন্দেহ প্রকাশ করে জানতে চায় যে ডিরেক্টর তাকে তেল দিচ্ছেন কি না, তবে জানিয়ে দেয় যে এতে কোনো লাভ নেই এবং সে এইখানে আর আসব না। পরিচালক তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন যে ঠিক আছে, আজ তবে শুধু একটা সিন করে দেওয়া হোক এবং ওইটা করলেই প্যাকআপ করে নতুন লোকেশনে যাওয়া হবে। হিরো এতে রাজি হয়ে যায় এবং বলে যে সেটে যা বলা হবে তা–ই হবে।

এদিকে ক্যামেরা ও লাইট প্রস্তুত করা হয় এবং এই গ্রামেরই এক আর্টিস্টও প্রস্তুত হন যিনি একসময় যাত্রা করতেন এবং বর্তমানে সবজি ফলিয়ে লাখপতি হয়েছেন, কিন্তু মাথার মধ্যে অভিনয়ের পোকা রয়ে গেছে। ডিরেক্টর তাকে যা বলে দিয়েছেন তিনি ঠিক সেটাই করবেন। হিরো এসে হাজির হয়ে জানতে চায় রাজু ভাইয়ের কাছে সিন কী। ডিরেক্টর বুঝিয়ে দেন যে হিরো ফ্রেমে ইন করবে এবং এই এক্সট্রা আর্টিস্ট একটা ডায়লগ দিয়ে বলবে, 'তুমি রহিমুদ্দির পোলা না? অ্যাদ্দিন পরে আসলা গ্রামে!', আর হিরো তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে যাবে।

হিরো নিজেকে শেষবারের মতো আয়নায় দেখে নেয় কারণ তার চুল আসল নয় এবং এটিকে সব সময় ঠিকঠাক রাখতে হয়। ডিরেক্টর আওয়াজ দেন রোল, ক্যামেরা অ্যান্ড অ্যাকশন। এক্সট্রা আর্টিস্ট দাঁতন করতে করতে ফ্রেমে প্রবেশ করে এবং হিরো ইন করার পর ডায়লগ দেয় যে সে রহিমুদ্দির পোলা কি না এবং এতদিন পরে গ্রামে কেন এসেছে। হিরো যখন তাচ্ছিল্যের সাথে তাকায়, তখন সেকেন্ডের মধ্যে এক্সট্রা আর্টিস্ট ডিরেক্টরের দিকে একটা ফলস লুক দেয় এবং ডিরেক্টরের ছোট্ট ইশারার সাথে সাথেই থপাস করে একটা শব্দ হয়। গ্রামছাড়া এক চড় সজোরে এসে পড়ে হিরোর গালে এবং সে ছিটকে নিচে পড়ে যায়।

এক্সট্রা আর্টিস্ট তখন সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ডায়লগ দেয় যে মাইরে ভিটামিন আছে কি না সে জানে না, কিন্তু মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই। ডিরেক্টর তার সারা দিনের জমানো থুতু থু করে ফেলে দেন। চড়ের চোটে হিরোর মাথার চুল ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং টাকমাথার হিরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে নিজের দাঁত ধরে বসে। আশঙ্কাজনকভাবে তার দুইটা দাঁত নড়তে শুরু করে এবং যেকোনো সময় তা খুলে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিরেক্টর চিৎকার করে নির্দেশ দেন প্যাকআপ করার জন্য এবং হিরোকে লোকেশন থেকে বের করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিমানবন্দরে মারামারির মামলায় জামিন পেলند সাবেক এমপি আখতারুজ্

বিমানবন্দরে মারামারির মামলায় জামিন পেলند সাবেক এমপি আখতারুজ্