ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘির পরিচিতি ও চ্যালেঞ্জ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘির পরিচিতি ও চ্যালেঞ্জ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করার শঙ্কার মধ্যে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আসীন হয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী সামরিক প্রযুক্তিবিদ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। গত রোববার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে তাঁর এই মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসনের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের আইনসভা অনলাইনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক এই ভোটাভুটিতে আখলাঘির পক্ষে ২৩৭ জন সংসদ সদস্য মত দেন এবং ১৫ জন তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের সূচনা দিনে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহসহ তেহরানের বহু শীর্ষ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর থেকে মজিদ ইবনে-রেজা অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং এখন তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকবেন।

ইরানি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, আখলাঘির মূল কর্মদক্ষতা আবর্তিত হয়েছে কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট ইঞ্জিন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক উৎপাদন এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি ঘিরে। পূর্বে তিনি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন ও শাহিদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, আখলাঘি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালেও রয়েছে।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্যমতে, বিগত কয়েক দশকে ইরানের বেশ কিছু প্রধান অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন প্রকল্পে আখলাঘির সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। ইরানের খ্যাতনামা ‘জুলফিকার’ ও ‘সেজিল’ শ্রেণির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘আলমাস’ ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ‘ইয়াসিন’-এর মতো নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম সমরাস্ত্র নির্মাণে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

এ ছাড়া সেমনানের ইমাম খোমেনি স্পেস সেন্টারে মহাকাশ যান ও গবেষণামূলক রকেটের অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আখলাঘি অবদান রেখেছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সামরিক শিল্পকারখানার কাঠামো পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের মূল চ্যালেঞ্জ এখন তাঁর ওপর বর্তেছে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, প্রতিরক্ষা খাত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহে কাজ করার ৪২ বছরেরও বেশি সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে আখলাঘির। তাঁর প্রণীত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাগুলো দেশের সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃপক্ষ, পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি এবং রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন লাভ করেছে।

সংসদে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেন যে ইরান স্বেচ্ছায় কোনো দেশের ওপর হামলা চালাবে না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

চলتی মাসের শুরুর দিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক গণমাধ্যমকে জানান, আখলাঘির এই মনোনয়ন মূলত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মতো কৌশলগত অস্ত্রের গুণগত ও সংখ্যাগত উন্নতির তাগিদ থেকেই এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত দাবি করে আসছে যে তারা ইরানের সামরিক উৎপাদনের সিংহভাগ সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পক্ষান্তরে তেহরানের দাবি, মার্কিন বা ইসরায়েলি বোমার আওতার বাইরে তাদের পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক শক্তি টিকে আছে এবং সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে সেগুলো আরও শাণিত করা হচ্ছে।

রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন আখলাঘি। ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান যে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে সম্পূর্ণ শান্তচিত্তে নিজ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আখলাঘি আরও উল্লেখ করেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এখন ভাবতে হবে তিনি কীভাবে এই অঞ্চল থেকে নিজের বাহিনীকে নিরাপদে সরিয়ে নেবেন। আমেরিকা যদি এখানে একটি বোমাও বর্ষণ করে, তবে কতজন সেনাকে কফিনে ভরে দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে, তা মার্কিন প্রশাসন নিজ চোখেই দেখতে পাবে।

তিনি জানান, বর্তমান যুদ্ধকালীন ও ভবিষ্যৎ সামরিক চাহিদার বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুধাবনের জন্য তিনি আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই বৈঠক করেছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকারে থাকবে সামরিক শিল্পের দ্রুত প্রসার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শক্তিমত্তা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উদীয়মান প্রযুক্তির সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ সাধন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাভার বন্ধুসভার উদ্যোগে শিশুদের মাঝে পূজার নতুন পোশাক বিতরণ

সাভার বন্ধুসভার উদ্যোগে শিশুদের মাঝে পূজার নতুন পোশাক বিতরণ