নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বল্প ব্যয়ের চলচ্চিত্রের জন্য চলতি ২০২৬ সালটি এক অবিশ্বাস্য সফলতার অধ্যায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে বড় সংযোজন হয়ে এসেছে একটি কন্নড় ভাষার চলচ্চিত্র, যার নাম ‘প্রেমাদা উরালি’।
খুব সামান্য মাত্র ৩ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই ছবিটি বক্স অফিসে ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে ১১৩ কোটি রুপিরও বেশি আয়। এর ফলে লাভজনকতার দিক থেকে এটি কন্নড় চলচ্ছিত্র ইন্ডাস্ট্রির অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রফিট মার্জিনের মাপকাঠিতে ছবিটি পেছনে ফেলে দিয়েছে কন্নড় সিনেমার ইতিহাসের দুই বিশাল ব্লকবাস্টার ‘কেজিএফ’ ও ‘কান্তারা’র মতো জনপ্রিয় সব নামকেও।
গ্রামীণ জনপদের পটভূমিতে তৈরি ‘প্রেমাদা উরালি’ মূলত একটি নিখাদ রোমান্টিক ও পারিবারিক মেলোড্রামা হিসেবে দর্শকদের সামনে এসেছে। এই পুরো কাহিনীর কেন্দ্রে অবস্থান করছেন একজন বাবা এবং তার সন্তান।
তাদের রক্ষণশীল পরিবারে যখন একজন আধুনিক মানসিকতার পুত্রবধূর পা পড়ে, তখন চিরচেনা পারিবারিক চিত্রের রূপ পুরোপুরি পাল্টে যায়। সেই সঙ্গে সামাজিক নানা প্রথা ও রীতিনীতির বিরুদ্ধে একজন নারীর লড়াইয়ের চিত্রও এতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের আবেগ-অনুভূতি এবং তাদের প্রাত্যহিক যাপিত জীবনের সঙ্গে এই কাহিনী নিবিড়ভাবে মিলে যাওয়ায় দর্শকরা ছবিটিকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন।
অথচ এই জনপ্রিয় ছবিটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পুরো যাত্রাটি একেবারেই সহজ বা মসৃণ ছিল না।
চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রাহক রাজকান্ত এসকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে এই কঠিন সংগ্রামের পেছনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, ছবিটির প্রচারণা এবং মুক্তির সার্বিক কাজের জন্য তাঁদের মাত্র ১৫ লাখ রুপি সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
এই সামান্য অর্থের আশায় তাঁরা যখন তৎকালীন সময়ে বড় বড় প্রযোজকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন, তখন প্রায় প্রত্যেকেই তাঁদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর