শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মারধর এবং তরুণীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়াল কান্দি এলাকার এক মুদি দোকানির ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়রা তাকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তিনি তার ছোট বোন (১৩) ও ভাইকে (৭) নিয়ে বাজার করতে গেলে মনির মোল্লা তাকে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন। এতে প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার দুই ভাই-বোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেখানে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং তখন তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। তার ভাই-বোনকেও গাছে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তার সন্তানদের উদ্ধার করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন নারী ও এক যুবককে তাকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আফসানা সরদার (৫০) ও আমির (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর