ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুই তরুণীকে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2026 ইং
দুই তরুণীকে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড ছবির ক্যাপশন: দুই তরুণীকে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
ad728

চার বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় শেষে অন্য আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে ঘুরতে বের হয়। রাত পৌনে ১০ টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে যায়। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিল।

‘সেখানে একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। আসামিরা তাদের মারতে মারতে রতনের খামার নামের একটি অন্ধকার মাঠে নিয়ে যায়। দুই বান্ধবীর বন্ধুদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মারধর করে তাদের টাকা-পয়সা, মোবাইল নিয়ে নেয়। এরপর ওই দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। তাদের মোবাইলও তারা নিয়ে নেয়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।’

এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ওই বছরের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স