ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জীবনযুদ্ধের কোন স্তরে আছেন জানতে অংশ নিন এই মজার জরিপে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
জীবনযুদ্ধের কোন স্তরে আছেন জানতে অংশ নিন এই মজার জরিপে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মানবজীবনকে অনেকেই একটি কঠিন সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। কে এই বহুল প্রচলিত উক্তিটি প্রথম করেছিলেন তার সঠিক তথ্য জানা না থাকলেও, নিজের বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এই ধরনের কথা অনেক সময় চালিয়ে দেওয়া চলে। মানুষের এই অস্তিত্বের লড়াইয়ে কারও সমৃদ্ধ জীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, আবার কারও ভেঙে যাওয়া জীবন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়। কার জীবনে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা যাচাই করার উপায় খুঁজতে মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি মিশিয়ে একটি ভিন্নধর্মী জরিপের আয়োজন করা হয়েছে।

এই মজার জরিপে অংশ নিতে হলে দৈনন্দিন জীবনের কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপনার আচরণ কেমন হয়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। পরিচিত কিংবা অপরিচিত, সামান্য পরিচিত কিংবা কিছুটা স্মৃতিবিজড়িত কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কর্মক্ষেত্রের বসের বিশেষ দিনগুলোতে আপনি সাধারণত কোন নির্দিষ্ট কাজটি করে থাকেন? প্রথম বিকল্প অনুযায়ী, আপনি কি কেবল তাদের জন্মদিনের দিন কিংবা বিবাহবার্ষিকীতে ব্যক্তিগত ইনবক্সে গিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান?

দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে আপনি কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কেবল শুভেচ্ছা বার্তাটি পোস্টের মাধ্যমে ট্যাগ করে দায়িত্ব সারেন? কিংবা তৃতীয় বিকল্পে গিয়ে সেই ব্যক্তির প্রকাশ্য প্রশংসা ও স্তুতি বা তোষামোদ করে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন? চতুর্থ বিকল্প অনুযায়ী, আপনি কি ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের একটি ছবি যুক্ত করে তাকে ‘পিও অভিভাবক’ কিংবা ‘পিও নেতা’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাকে সৎ ও যোগ্য হিসেবে সার্টিফিকেট দিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ বয়ান বা পোস্ট শেয়ার করেন?

এবার আপনার দেওয়া উত্তরের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বরগুলো খুব ভালোভাবে লক্ষ করুন। যদি আপনার উত্তর ‘ক’ হয়ে থাকে, তবে এই জরিপে আপনার প্রাপ্ত নম্বর হলো দুই। যদি আপনার উত্তর ‘খ’ হয়, তবে আপনি পাবেন তিন নম্বর। আপনার উত্তর যদি ‘গ’ ক্যাটাগরির হয়, সেক্ষেত্রে আপনার প্রাপ্ত নম্বর চার। আর যদি আপনার উত্তর ‘ঘ’ বিকল্পের পক্ষে যায়, তবে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ পাঁচ নম্বর। এর বাইরে যদি আপনার উত্তর ভিন্ন কিছু হয় এবং সেটি ‘ঙ’ ক্রমিক হিসেবে গণ্য হয়, তবে আপনার প্রাপ্ত নম্বর হবে একদম শূন্য।

প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে এবার আপনার ফলাফলের সঙ্গে জীবনের বর্তমান অবস্থান মিলিয়ে দেখার সময় এসেছে। আপনি যদি দুই নম্বর পেয়ে থাকেন, তবে বুঝতে হবে আপনি এই দীর্ঘ জীবনযুদ্ধের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছেন। এতে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই, কারণ সামনে নিশ্চয়ই ভালো দিন আসবে। যদি তা না আসে, তবে সামান্য বারো টাকার বিনিময়ে রসআলো হাতে চলে আসবে।

আপনি যদি তিন নম্বর অর্জন করে থাকেন, তবে নিজেকে একজন উদীয়মান জীবনযোদ্ধা হিসেবে ধরে নিতে পারেন। দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতোই আপনি একজন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত। আপনার জীবনের প্রতিটি পথই খোলা রয়েছে এবং পরিস্থিতি বুঝে সুযোগ নেওয়ার চমৎকার দক্ষতা আপনার ভেতরে বিদ্যমান রয়েছে।

চার নম্বর অর্জনকারী ব্যক্তি হিসেবে আপনি যে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অব্যাহত রেখেছেন। আপনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে এবং আপনার শনৈ শনৈ উন্নতির স্পষ্ট হাতছানি দেখা যাচ্ছে। আপনি ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির বেশ পছন্দের তালিকায় আছেন এবং বিশেষ সময়ে আপনি অনায়াসে অশেষ সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

এই জরিপে সর্বোচ্চ পাঁচ নম্বর অর্জনকারী ব্যক্তি হিসেবে আপনি নিজেকে একজন সফল জীবনযোদ্ধা হিসেবে দাবি করতে পারেন। আপনার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইকরেট বেশ সন্তোষজনক এবং খুব দ্রুতই কোনো বিশেষ আর্থিক সুবিধা কিংবা নতুন কোনো প্রকল্প আপনার প্রাপ্য হিসেবে জোটার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আপনার উত্তর যদি ‘ঙ’ ক্রমিকের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আপনার ভবিষ্যৎ বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে ধরে নিতে হবে। আপনি মূলত এই পৃথিবীর সাধারণ কোনো প্রাণী নন। বাংলা চলচ্চিত্রের দুঃখী নায়কদের মতো আপনি সারাজীবন শুধু গাধার খাটনি খেটে যাবেন। চলচ্চিত্রের পরিচালকের কৃপা হলে হয়তো একদম শেষে এসে সুখের মুখ দেখতে পাবেন, নতুবা তখনো আপনার জন্য এক করুণ পরিণতি অপেক্ষা করবে।

উল্লিখিত ‘ঙ’ ক্রমিক বাদে আপনি যদি এর আগের প্রতিটি কাজই একসঙ্গে করে থাকেন, তবে আপনি ব্যতিক্রমী এক চরিত্র। আপনি অন্য লেভেলের এক অভিনব ‘জিনিস’। আপনার অস্তিত্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা যেন একেবারেই ইউনিক, যাকে এককথায় বলা চলে ‘ওয়ান পিস মেড, কোম্পানি ডেড’।

অর্থাৎ, এই জরিপের মোট চৌদ্দ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ চৌদ্দ নম্বর অর্জন করে আপনি জীবনযুদ্ধে সবার চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। আপনি প্রকৃত অর্থেই একজন মহান ব্যক্তি এবং খাঁটি কর্মবীর। যেকোনো পরিবর্তিত রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিস্থিতি তৎক্ষণাৎ সামলে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা আপনার রয়েছে। এমনকি বহু বছরের পুরোনো অভ্যাস কিংবা কোনো বিশেষ স্লোগান যদি মুখ ফসকে বেরিয়েও যায়, তবে আপনি চরম কৌশলে তা সামলে নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী বক্তব্য বদলে ফেলতে পারেন।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আপনাকে ঠেকানোর ক্ষমতা কারোরই নেই। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার চূড়ান্ত সাফল্য একরকম অনিবার্য বললেই চলে। পরিশেষে এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আপনাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সে চরম বামদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও ব্যবসা বাণিজ্যে ব

ফ্রান্সে চরম বামদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও ব্যবসা বাণিজ্যে ব