ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল বিরোধের জেরে পিটিয়ে হত্যা পিতাকে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল বিরোধের জেরে পিটিয়ে হত্যা পিতাকে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গত রোববার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজীর দীঘির পাড় বাজারে মারধরের শিকার হয়ে হোসেন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত হোসেন মিয়া ওই নির্দিষ্ট এলাকার সুলতান আহমেদ ভূঁইয়ার সন্তান।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোসেন মিয়ার ২৮ বছর বয়সী পুত্র সাইফুল ইসলাম একজন পল্লিচিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। গত ১৯ অক্টোবর এলাকার শাকিল নামের এক ব্যক্তি সাইফুলের একটি মোটরসাইকেল ধার হিসেবে নিয়েছিলেন। মাত্র ১০ মিনিটের কথা বলে বাইকটি নেওয়া হলেও শাকিল তা আর যথাসময়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না।

এই বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি দোকানে উভয় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে অভিযুক্ত শাকিল সেই সালিসে উপস্থিত থাকতে বা বসতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

সালিস না বসার এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাতে শাকিলের সঙ্গে সাইফুল ও তাঁর পিতা হোসেন মিয়ার তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাকিল এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বিপ্লব নামের অপর এক ব্যক্তি হোসেন মিয়াকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন।

মারধরের তীব্রতায় হোসেন মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তির ছেলে সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শাকিল তাঁর পিতার নাক ও বুকে সজোরে আঘাত করেন, যার ফলে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছে। পিতার পাশাপাশি তাঁকেও শারীরিকভাবে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মিজানুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তাঁর বাজারের দোকানেই দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে একটি বৈঠকের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শাকিল শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠকে বসতে রাজি হননি এবং এই ব্যাপারটি নিয়েই সাইফুল ও হোসেন মিয়ার সঙ্গে শাকিলের কথা-কাটাকাটি বাঁধে, যার একপর্যায়ে শাকিল ও বিপ্লব হোসেন মিয়াকে মারধর করেন।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অরূপ পাল গণমাধ্যমকে জানান, হোসেন মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই মারধর ও মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল ও বিপ্লবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা দুজন নিজ নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, হামলা ও মারধরের ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবরটি তিনি অবগত হয়েছেন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং প্রযুক্তির নতুন ভারতীয় কোচ চালু

অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং প্রযুক্তির নতুন ভারতীয় কোচ চালু