নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই নদীর বুকে এক অদ্ভুত ও নতুন উত্তেজনার হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই দৃশ্যগুলো যেন সম্পূর্ণ অচেনা এক জলখাতার পাতার মতো সবার সামনে উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের খেলার প্রভাব যে জলের নিচে থাকা মাছেদের মধ্যেও পড়তে পারে, এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়েছে।
নদীর জলের এই খেলায় পুঁটি ও চেলা মাছেরা দুটি আলাদা শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং তাদের পছন্দের ফেভারিট দলের সমর্থনে পতাকাও উত্তোলন করেছে।
চারদিকে শুধু পতাকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই দৃশ্য মূলত সমগ্র নদীর রূপকেই বদলে দিয়েছে। বিভক্ত হয়ে পড়া এই নদীর মধ্যে আর সেই পুরোনো ও স্বচ্ছ শান্ত ভাব বা সুবিমল ধী-র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পুঁটি মাছেরা নদীর ভাটি অঞ্চলে প্রবল আনন্দ ও হুল্লোড় করছে, অন্যদিকে চেলা মাছেরা গিয়ে ভিড় জমিয়েছে উজান অঞ্চলে। তাদের প্রিয় তারকার ছবি উঁচুতে ধরে কেউ কেউ বলে উঠছে যে, হে বীর, আমাদের হৃদয়ের পুজো তুমি গ্রহণ করো।
চারপাশে শুধু একটাই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, তা হলো ফুটবল আর ফুটবল।
ক্ষুদ্র ও ক্ষীণ দেহের অধিকারী চেলা এবং পুঁটি মাছেরা সারাদিন যা কিছু খাদ্য গ্রহণ করে, তার সমস্ত শক্তি যেন শেষ হয়ে যায় ডিসকো, সালসা এবং ঝাকানাকা নাচে।
চেলা মাছের দল যেদিকে অগ্রসর হয়, পুঁটি মাছেরা ঠিক তার বিপরীত দিকে যাতায়াত করে। এই শান্ত নদীর বুকে এমনভাবে চলাফেরা চলছে, যেন দুটি অদৃশ্য রাজার মধ্যে কোনো অদৃশ্য যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে।
চেলা দলের পক্ষ থেকে নাচতে নাচতে ধিনাক সুরে ঘোষণা করা হচ্ছে যে আমরাই জয়ী হব।
অন্যদিকে পুঁটি মাছেরা প্রত্যুত্তরে জানাচ্ছে যে, আগে আমরা জয়লাভ করি, দেখি তোদের নাক ছিঁড়ে দিতে পারি কি না।
দুই দলই তাদের নিজ পক্ষের মাছকে এমনভাবে টানছে, মনে হচ্ছে তারা কোনো মিছিলে অংশ নিয়েছে। চেলাদের সামনে পেয়ে পুঁটি দলও কেবল অবান্তরভাবেই লেজ দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছে।
শান্ত জলের মাঠে কেন এমন হিংসাত্মক দৃশ্য, হানাহানি আর হুটোপুটি দেখা যাবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। এমন খবরও শোনা যাচ্ছে যে, চেলা মাছেরা নাকি মারামারি করে দুটি পুঁটি মাছের কানকো পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলেছে।
চলমান বিশ্বকাপের এই বিশেষ মৌসুমে নদী ও জলের এমন পরিবেশ বজায় রয়েছে।
ছোট এই দুই দলের এমন সব কান্ডকারখানা দেখে রুই ও ইলিশ মাছেরা খিলখিল করে হেসে ওঠে।
তারা তখন চেলা ও পুঁটি মাছের উদ্দেশে বলে যে, তোরা তো চিরকালই দুর্বল ও সরুই প্রকৃতির ছিলি।
এতদিন ধরে শুধু নাচানাচিই করে গেলি, এর বাইরে নিজের কোনো সত্যিকারের অর্জন কি আছে?
যদি নিজের কোনো অর্জন না-ই থাকে, তবে কেন এত কানা দলবাজি, অতিরিক্ত লাফালাফি এবং অহেতুক ঝামেলা করছিস?
তারা আরও বলে যে, আমরা সবাই একই মৎস্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এবং এই নদীটি আমাদের সবারই একটি উন্মুক্ত গ্রাম বা নিবাস।
তাহলে এত হিংসা ও দ্বন্দ্ব কেন, সমস্ত মাছ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করে একসাথে লেজ দোলালে সমস্যা কোথায়।
অবশেষে সমস্ত নীরবতা ভেঙে চেলা ও পুঁটি মাছের সামনে এসে কথা বলে ওঠে কাতল মাছ।
সে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, নিজেদের কাঁধে ভর করে, জলমাঠে এবং নিজ গৃহে যদি ক্ষমতা থাকে তবে নিজেদের পতাকা নিজেই ওড়াও।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর