ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অযতে্ন কালচে হয় ঠোঁট, ফেরানোর সহজ ঘরোয়া উপায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
অযতে্ন কালচে হয় ঠোঁট, ফেরানোর সহজ ঘরোয়া উপায় ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

অনেকের মাঝেই একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে ঠোঁটের কালচে হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি জিনগত বা বংশগত কারণে ঘটে থাকে। অথচ বাস্তবিক পরিস্থিতি হলো, জন্মগত কারণের তুলনায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা ধরনের অসচেতনতা এবং পর্যাপ্ত অযত্নের ফলেই মূলত ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ক্রমশ আরও বেশি গাঢ় ও কালচে রূপ নেয়। ঠিক কী কারণে মানুষের ঠোঁটের নিজস্ব আসল রং হারিয়ে যেতে পারে এবং কোন কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে সেই আগের সজীবতা নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, সে সম্পর্কে বিস্তারিত নানা দিক তুলে ধরেছেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের অভিজ্ঞ রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি এবং পুরো বিষয়টি সুন্দরভাবে লিখেছেন আনিকা তায়্যিবা।

রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আমাদের সম্পূর্ণ মুখমণ্ডলের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের নিজস্ব পিগমেন্ট তথা প্রাকৃতিক রং সাধারণত কিছুটা গাঢ় হওয়াটাই স্বাভাবিক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ফরসা ত্বকের অধিকারীদের ক্ষেত্রে ঠোঁটের রং সামান্য গোলাপি কিংবা হালকা বাদামি আভাযুক্ত হওয়াই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে যখন এই স্বাভাবিক রং আরও বেশি গাঢ় এবং ট্যানড হয়ে যায়, তখন সেটি বাইরে থেকে কালচে হিসেবে প্রতিভাত হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত কালচে হয়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মূল কারণ কাজ করে থাকে।

এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো শরীরে আর্দ্রতার মারাত্মক অভাব ঘটা। মানবদেহে পানির পর্যাপ্ত ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট অতিরিক্ত মাত্রায় শুষ্ক হয়ে পড়ে, যার ফলস্বরূপ ঠোঁটের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা চিরতরে হারিয়ে যায় এবং কালচে ভাব অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য উন্মুক্ত অংশের মতো কপাল বা নাকের মতোই ঠোঁটেও সরাসরি সূর্যের রোদ এসে পড়ে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মির সরাসরি প্রভাবে ঠোঁটের অত্যন্ত সংবেদনশীল ত্বকে কালচে ছোপ ছোপ দাগের সৃষ্টি হয়।

তদুপরি, প্রতিদিনের রূপচর্চায় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে তৈরি লিপস্টিক, লিপলাইনার কিংবা লিপ টিন্টের অতিরিক্ত ও নিয়মিত ব্যবহার ঠোঁটের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।

অনেকেরই আবার দাঁত কিংবা আঙুল দিয়ে ঠোঁটের অতিরিক্ত শুকনা চামড়া টেনে তুলে ফেলার একটি অত্যন্ত বাজে অভ্যাস বা বদভ্যাস থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ঠোঁটের নরম ত্বক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কালচে স্থায়ী দাগ বসে যায়।

এ ছাড়াও নির্দিষ্ট কোনো প্রসাধনী সামগ্রী বা উপকরণের কারণে সৃষ্ট অ্যালার্জি কিংবা অন্যান্য নানা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণেও মানুষের ঠোঁট কালচে হয়ে যেতে পারে।

ঠোঁটের ওপর জমে ওঠা এই কালচে দাগগুলো অত্যন্ত দ্রুত দূর করার উদ্দেশ্যে আজকাল অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক সার্জারি করানোর কথা গভীরভাবে চিন্তা করে থাকেন। তবে রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির জোরালো অভিমত হলো, সার্জারির মাধ্যমে সাময়িকভাবে যে পরিবর্তন পাওয়া যায় তা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির হয়ে থাকে; বরং যুগ যুগ ধরে মানুষের সমাজে প্রচলিত ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপায়ে নেওয়া যত্নই ঠোঁটের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও আসল রং ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা পালন করে থাকে।

খুবই সাধারণ ও সহজলভ্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেই যে কেউ নিয়মিত নিজের ঠোঁটের সঠিক যত্ন নিতে সক্ষম হন।

প্রথমত, গোলাপের পাপড়ি ও গ্লিসারিনের প্যাক দারুণ কার্যকরী। তাজা গোলাপ ফুলের কয়েকটি পাপড়ি ভালোভাবে বেটে তার সঙ্গে পরিমাণমতো সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বা প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে গোলাপ ফুলটি লাল কিংবা গোলাপি রঙের হলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই বিশেষ মিশ্রণটি ঠোঁটে মেখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখলে ঠোঁট যেমন নরম ও কোমল হয়, তেমনই ঠোঁটের হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক গোলাপি আভা পুনরায় ফিরে পেতে এটি দারুণভাবে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, মৃদু স্ক্রাবিং করা অত্যন্ত জরুরি। ঠোঁটের ওপর জমে থাকা মৃত চামড়া বা ডেড সেলস সফলভাবে দূর করার জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন হালকাভাবে স্ক্রাব করা একান্ত প্রয়োজন। আধা চা–চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ চিনি মিশিয়ে অত্যন্ত আলতো ও মৃদু হাতে ঠোঁটে ঘষে নিতে হবে। যদি ঘরে মধু না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে চিনি ও মাত্র কয়েক ফোঁটা বিশুদ্ধ তেল যেমন নারকেল তেল কিংবা জলপাই তেল একসঙ্গে মিশিয়েও এই স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে, ঠোঁটের চামড়া অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় কোনো অবস্থাতেই জোরে জোরে জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না।

তৃতীয়ত, লিপ সানস্ক্রিনের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ঘর থেকে বাইরে রোদে বের হওয়ার ঠিক আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ প্লাস বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মানসম্মত লিপ সানস্ক্রিন কিংবা লিপবাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির আক্রমণ থেকে ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বককে সবসময় সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।

চতুর্থত, রাতের বিশেষ পরিচর্যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে মুখ ধোয়ার পাশাপাশি ঠোঁটের মেকআপও খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা আবশ্যক। এরপর রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে ভালো মানের কোনো ময়েশ্চারাইজার, পুষ্টিকর লিপবাম বা হাইড্রেটিং লিপ প্যাক লাগিয়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।

যাঁদের ঠোঁটে কালচে ভাব বা পিগমেন্টেশনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে, তাঁরা একটানা অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন কিংবা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত দুই থেকে তিন দিন এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে যত্ন চালিয়ে যেতে পারেন। একই সঙ্গে দৈনিক শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইনফান্তিনোর ২১ কোটি টাকার বেতন ও সম্পত্তি কেনার অভিযোগ প্রত্

ইনফান্তিনোর ২১ কোটি টাকার বেতন ও সম্পত্তি কেনার অভিযোগ প্রত্