নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশে ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন।
বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য জানান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।
বর্তমান সময়কে ক্রান্তিকাল হিসেবে অভিহিত করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পূর্বসূরিদের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া গেছে। দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।
মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে সাধারণ মানুষকে জমানো অর্থ ভেঙে ফেলতে হচ্ছে অথবা ঋণ করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবির থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, যা যুব ও শিক্ষিত বেকারত্বকে তীব্র করে তুলেছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি নতুন চাপের মুখোমুখি হয়েছে বলে তিনি জানান। জিডিপি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন মত দেওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে উপদেষ্টা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও আগের প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন শাখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধান এবং টেকসই জ্বালানি নিশ্চিতেও ঘাটতি ছিল, অথচ বিনিয়োগ আকর্ষণে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির বিকল্প নেই।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবকদের কাজের উপযোগী করতে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষানীতি ও ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষা খাতে জিডিপির পূর্ণ ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হবে এবং আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তা ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষ মানবসম্পদের পাশাপাশি সুস্থ নাগরিক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা চালু হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দারিদ্র্যের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর