ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তিন দিনে রামায়ণের বিশ্বব্যাপী আয় ৩৭৫ কোটি ছাড়াল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
তিন দিনে রামায়ণের বিশ্বব্যাপী আয় ৩৭৫ কোটি ছাড়াল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলচ্চিত্র ভুবনে আত্মপ্রকাশের শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে রণবীর কাপুর ও যশ অভিনীত সিনেমাটি। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই দৃশ্যকাব্যটির প্রতি দর্শকের কৌতূহল ছিল প্রাক-মুক্তির সময় থেকেই। তারকা খচিত অভিনয় শিল্পীদের উপস্থিতি, নির্মাণে বিশাল বাজেট এবং পশ্চিমা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছবিটিকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে নিয়ে গিয়েছিল। প্রদর্শনী শুরুর পর বক্স অফিসের হিসাব-নিকাশেও সেই চাহিদার স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে। নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে তিনশো পঁচাত্তর কোটি পঞ্চাশ লাখ রুপি ঘরে তুলেছে।

উৎসবমুখর ছুটির আবহে ছবিটির তৃতীয় দিনের আয়ের অঙ্কে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ গত শুক্রবার উপার্জনের গতি কিছুটা মন্থর হলেও, শনিবার সেই মন্দাভাব কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ছবিটি। গত ৭ নভেম্বর তৃতীয় দিনে কেবল ভারতের অভ্যন্তরেই সিনেমাটির নিট সংগ্রহ পৌঁছেছে ঊনসত্তর কোটি ৮০ লাখ রুপিতে। বিগত দুই দিনের তুলনায় এদিন ব্যবসা বেড়েছে প্রায় পঁয়তাল্লিশ দশমিক তিন শতাংশ। কেবল তাই নয়, প্রদর্শনী শুরুর প্রথম দিনের সংগ্রহকেও ছাড়িয়ে গেছে এই প্রাক-সপ্তাহান্তের আয়।

দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনে ছবিটির নিট ব্যবসা হয়েছিল চৌষট্টি কোটি পঁচাশি লাখ রুপি। পরের দিনে সেই সংখ্যা কমে আটচল্লিশ কোটি পাঁচ লাখ রুপিতে নেমে আসে। যদিও তৃতীয় দিবসে এসে সিনেমাটি পুনরায় হারিয়ে যাওয়া গতি ফিরে পায়। ভারতের বাজারে তিন দিনের মোটের ওপর নিট আয় দাঁড়িয়েছে একশো বিরাশি কোটি ৭০ লাখ রুপি। কর বাবদ অর্থ যুক্ত করলে মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় দুইশো আঠারো কোটি পঁচিশ লাখ রুপি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তৃতীয় দিবসে আরও ষাট কোটি রুপি যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বহির্বিশ্বের বাজার থেকে ছবিটির সর্বমোট উপার্জন দাঁড়িয়েছে একশো সাতান্ন কোটি পঁচিশ লাখ রুপি।

দেশ ও বিদেশের সমস্ত বাজার মিলিয়ে তিন দিনে রামায়ণের বিশ্বব্যাপী মোট অর্জিত অর্থের পরিমাণ তিনশো পঁচাত্তর কোটি পঞ্চাশ লাখ রুপি। এর ফলে প্রদর্শনীর প্রথম সপ্তাহান্ত শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিনশো কোটি রুপির গণ্ডি সাফল্যের সঙ্গে পার করে ফেলেছে এই চলচ্চিত্রটি।

মোট পাঁচটি আলাদা ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটির আয়ের সিংহভাগ এসেছে মূলত এর হিন্দি সংস্করণ থেকে। তৃতীয় দিবসের হিসাবে কেবল হিন্দি রূপান্তর থেকেই কোষাগারে জমা হয়েছে তিপ্পান্ন কোটি রুপি। তিন দিনের হিসেবে এই একক সংস্করণের সর্বমোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে একশো ছত্রিশ কোটি রুপি। এছাড়া কন্নড় সংস্করণ থেকে আঠারো কোটি সত্তর লাখ, তেলেগু থেকে ষোলো কোটি পঁচাত্তর লাখ, তামিল থেকে ছয় কোটি ৬০ লাখ এবং মালয়ালম ভাষা থেকে চার কোটি পঁয়ষট্টি লাখ রুপি অর্জিত হয়েছে।

বহুভাষিক সংস্করণে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত যে দর্শক সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, আয়ের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে সেটাই প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে মূল ধারার হিন্দি ভাষার পাশাপাশি কন্নড় ও তেলেগু অঞ্চলের দর্শকদের পক্ষ থেকেও অভাবনীয় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

চলচ্চিত্রটিতে প্রধান দুই তারকা রণবীর কাপুর ও যশের মুখোমুখি অবস্থান দর্শকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রামের ঐতিহাসিক চরিত্রে রণবীর এবং শক্তিশালী রাবণের ভূমিকায় যশের রূপদান নিয়ে উন্মাদনা ছিল প্রারম্ভিক পর্যায় থেকেই। মহাকাব্যের এই দৃশ্যায়নে সীতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাই পল্লবী। এছাড়া পবনপুত্র হনুমানের ভূমিকায় সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই মহাকাব্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও যুক্ত হয়েছেন অরুণ গোভিল, লারা দত্ত, কাজল আগরওয়াল, রাকুল প্রীত সিং, বিবেক ওবেরয় এবং কুনাল কাপুর। পর্দায় এই সমস্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখগুলোর উপস্থিতি চলচ্চিত্রটির প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে নির্মাতা নিতেশ তিওয়ারি দঙ্গল ও ছিছোড়ের মতো বক্স অফিসে সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও পরিচিত মহাকাব্যকে সেলুলয়েডের ফ্রেমে বন্দি করেছেন।

প্রাচীন এই মহাকাব্যের আখ্যানভাগকে রুপালি পর্দায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে নির্মাতারা পুরোপুরি নির্ভর করেছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল পটের ভিজ্যুয়াল আয়োজনের ওপর।

সিনেমাটির সুর ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব যৌথভাবে সামলেছেন ভারতের এ আর রাহমান ও হলিউডের বিখ্যাত সুরকার হ্যান্স জিমার। দৃশ্য ধারণের কাজটি পরিচালনা করেছেন ক্যামেরাম্যান মিতেশ মিরচান্দানি। এছাড়া ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্স এর যাবতীয় কাজের তত্ত্বাবধানে ছিল ডিএনইজি প্রতিষ্ঠান। এর ফলস্বরূপ, দেশীয় পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও নির্মাণশৈলীর এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন নির্মাতারা।

পুরো পরিকল্পনা অনুযায়ী রামায়ণ চলচ্চিত্রটি মোট দুটি খণ্ডে নির্মিত হচ্ছে। প্রথম পর্বের সফল প্রদর্শনীর পর কাহিনীর পরবর্তী মোড় ও বিস্তার নিয়ে দর্শকদের মনে নতুন করে কৌতূহল ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রক্তশূন্যতায় ভুগে রামেক হাসপাতালে ভর্তি ভূমিমন্ত্রী মিনু

রক্তশূন্যতায় ভুগে রামেক হাসপাতালে ভর্তি ভূমিমন্ত্রী মিনু