নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকটের সুরাহা করতে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এই প্যানেল গঠনের তথ্যটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান জামিনুর রহমান।
তৈরি হওয়া এই প্যানেলের প্রধান করা হয়েছে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে। অন্যদিকে প্যানেলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে।
এছাড়া দেশের তিনটি প্রধান সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যদের এই কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুপ ইলাহী চৌধুরী।
পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারিও এই কমিটির একজন সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির প্যানেলটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানিয়েছেন, সংকটে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাউকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। পাশাপাশি যে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই প্যানেল বানানো হয়েছে, সেই সভার বৈধতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন কারণ সেখানেও প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।
অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের একুশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের দাবি খুব পরিষ্কার। সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে শিক্ষার্থীদের নিকট লিখিত মুচলেকা দিয়ে চলে যাওয়া বর্তমান উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে তাঁরা আর চান না।
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার উদ্দেশ্যে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের ব্যবহৃত দুটি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ জটিলতার সূচনা হয়েছিল গত একুশ সেপ্টেম্বর রাতে। ওই সময়ে মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছাপ্পান্ন দিনের মধ্যে সাবেক প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ওই আদেশের প্রতিবাদে বাইশে সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলন ও অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর ফলে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ছয়টি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাপঞ্জি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই অস্থিরতার মাঝে গত বারো অক্টোবর সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে চড়ে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সে সময় তাঁর সাথে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রশাসনিক ভবনের ভেতর আটকে ফেলেন এবং ওই ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দেন। দীর্ঘ ত্রিশ ঘণ্টা পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁকে বাইরে বের করে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর সার্কিট হাউস থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ষোলো অক্টোবর সেখান থেকেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর