ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জকিগঞ্জের আমলশীদে তিন নদীর মোহনা ও তি-গাঙ্গার সৌন্দর্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 ইং
জকিগঞ্জের আমলশীদে তিন নদীর মোহনা ও তি-গাঙ্গার সৌন্দর্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শীতালং শাহর পবিত্র মাজার থেকে মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের পথ পায়ে হেঁটে গেলেই উপস্থিত হওয়া যায় এমন একটি মোহনায়, যেখানে এসে মিলিত হয়েছে মোট তিনটি নদী। এলাকাবাসীর কাছে এই বিশেষ জায়গাটি অত্যন্ত পরিচিত এবং সমাদৃত ‘তি-গাঙ্গা’ নামে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি অবস্থিত বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলশীদ গ্রামে। নদীপ্রেমিক ও প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে এই স্থানটি এক অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

ভারতের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে আসা বরাক নদ এই নির্দিষ্ট স্থানে এসে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রূপ নিয়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে। এই মিলনমেলাটি সৃষ্টি করেছে এক অভূতপূর্ব ও চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট। নদীর সুবিশাল জলরাশি, গা জুড়ানো শীতল হাওয়া আর চারপাশের নীল আকাশ—সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

এই মোহনার ঠিক পাশেই, সুরমা নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থান করছে ঐতিহ্যবাহী বারঠাকুরী গায়েবি দিঘি। যদিও সময়ের নির্মম বিবর্তনে এবং পরিবর্তনের ধারায় দিঘিটির সেই পুরনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক দিঘির স্থান দখল করে নিয়েছে এক বিশাল ও বিস্তৃত কৃষিজমি।

কুশিয়ারা নদীর তীরসংলগ্ন এই অঞ্চলটি দর্শনার্থীদের জন্য বেশ মনোরম ও আকর্ষণীয়। এখান থেকে যেমন নদীর অপরূপ রূপ উপভোগ করা সম্ভব, তেমনি নদীর অপর পারে অবস্থিত ভারতের করিমগঞ্জও খালি চোখে দেখা যায়। নদীপথে নৌকার সাহায্যে সাধারণ মানুষের পারাপার হওয়ার দৃশ্যও এখানে নিয়মিত চোখে পড়ে। এলাকাটি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে এর রয়েছে একটি বিশেষ ও আলাদা ভৌগোলিক গুরুত্ব।

বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামার ঠিক আগের মুহূর্তটি আসে, তখন ঘাটে গেলে দেখা মেলে এক মনোরম দৃশ্যের, যেখানে স্থানীয় শিশুরা মেতে ওঠে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে। এই দৃশ্যটি সত্যিই দারুণ উপভোগ্য। অবাক করার বিষয় হলো, ঘুড়ির নাটাই থাকে বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে আর সেই রঙিন ঘুড়িটি উড়ে বেড়ায় ভারতের মুক্ত আকাশে! দুই দেশের সীমান্ত ছুঁয়ে থাকা আকাশ যেন ঘুড়ির সুতোয় একে অপরের সাথে বাঁধা রয়েছে। এমন এক অসাধারণ দৃশ্য যেকোনো মানুষের মন সহজেই কেড়ে নেয় এবং ফিরিয়ে নিয়ে যায় নিজের ফেলে আসা দুরন্ত শৈশবের দিনগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও অবকাশ যাপনের জন্য এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। প্রতিদিন বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বহু মানুষ এখানে আসেন তাদের অবসর সময়টুকু শান্তিতে কাটাতে। নদীর শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ, খোলা আকাশ এবং ওপারের ভিনদেশি ভূখণ্ডের দৃশ্য উপভোগ করাই তাদের মূল আকর্ষণ। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে জকিগঞ্জ কাস্টম ঘাট হতে পারে বিকেলের সময় কাটানোর জন্য একটি অত্যন্ত চমৎকার ও আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মুক্তির আকুলতা ও আত্মজিজ্ঞাসায় অনন্য গীতাঞ্জলি

মুক্তির আকুলতা ও আত্মজিজ্ঞাসায় অনন্য গীতাঞ্জলি