ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব নয়। এই মারাত্মক সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একত্র করে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে তারা প্রস্তাবিত নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে দুর্ঘটনা রোধ করার কৌশল, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিতকরণ এবং কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করার বিধান যুক্ত করার জোরালো সুপারিশ জানান।

জাতিসংঘ ঘোষিত সড়ক নিরাপত্তা কর্মদশক ২০২১ থেকে ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনা থাকা আবশ্যক। বৈঠকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নির্ধারণ, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং কাজের অগ্রগতি পরিমাপ করার জন্য যথাযথ সূচক তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন নিরাপদ সড়ক চাই বা নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নিসচার স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে সরকার যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে তাঁরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।

ভার্চ্যুয়াল ওই বৈঠকে নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই গোলটেবিল বৈঠকের সারসংক্ষেপ এবং উপস্থিত সকল অংশীজনের মূল্যবান মতামতের ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সড়ক নিরাপত্তা আইনটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই বা নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জানান যে, বিগত ৩৩ বছর ধরে তাঁর সংগঠনটি দেশের সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি জানানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই আন্দোলনের পরই মূলত সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এসে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের যে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে তিনি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বা বিআরটিসির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বা বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব ভুঁইয়া।

এছাড়া অনুষ্ঠানে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তথা অপারেশনস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনতাসিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, তারা প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া অংশীজনদের সব মতামত তুলে ধরা এবং আইন বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তীব্র দাবদাহে ইউরোপে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বাড়ছে প্রাণহানি

তীব্র দাবদাহে ইউরোপে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বাড়ছে প্রাণহানি