নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও লাভজনক রূপ দিতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষিকাজকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ক্রমেই সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
সরকারের এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার। এছাড়া জিআইএস, স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিগ ডেটার মতো আধুনিক মাধ্যমগুলোও কৃষির উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে।
এই প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ভিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলন তদারকি করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে ফসলের নানা রোগবালাই দ্রুত শনাক্ত করে নির্দিষ্ট পরিমাণে সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে কৃষককে সরাসরি সরকারি সুবিধা দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের কৃষকদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় নিয়ে আসার কাজ চলছে এবং তাদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় দুই কোটি পঁচাত্তর লাখ কৃষককে ডিজিটাল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সেবা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের গবেষণামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মন্ত্রী। নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার জন্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান কৃষিমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের কৃষি খাতকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের বিনা মূল্যে মানসম্মত বীজ ও সারসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে, ফসলের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা এবং শ্রমিকের ঘাটতি সফলভাবে মোকাবিলা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আরও লাভজনক ও আকর্ষণীয় ব্যবসায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই যান্ত্রিকীকরণের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ কৃষকদের সার্বিক উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা এবং সামগ্রিক কৃষি খাতকে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান গবেষণার মোট ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষণার বিকেন্দ্রীકરણ ঘটানো হচ্ছে যেন দেশের প্রতিটি কোণায় এর সুফল পৌঁছাতে পারে।
নতুন এসব আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া এবং কৃষির পরিবেশের সঙ্গে মানানসই নতুন জাতের ধান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক এই সুনির্দিষ্ট গবেষণার হাত ধরেই দেশের কৃষি খাতকে কোনো বৈষম্য ছাড়াই সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর