ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৮০ বছরের অপেক্ষা শেষে সিডনিতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
৮০ বছরের অপেক্ষা শেষে সিডনিতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজনৈতিক জটিলতা এবং সুদীর্ঘ আশির বছরের অপেক্ষা পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নবনির্মিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে। আগামী রবিবার পশ্চিম সিডনির ব্যাজেরিস ক্রিকে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ (যা ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন নামে পরিচিত) থেকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। গত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রধান বিমানবন্দর চালুর ঘটনা এটিই প্রথম, যা এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শহরের মূল কেন্দ্র থেকে প্রায় চৌচল্লিশ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এই আকাশবন্দরটি নির্মিত হয়েছে এবং এটি দিবারাত্রি চব্বিশ ঘণ্টাই চালু থাকবে। সিডনির বর্তমান প্রধান ও একমাত্র বিমানবন্দরে রাত এগারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত যে কঠোর নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা বা কার্ফিউ বলবৎ রয়েছে, নতুন এই স্থাপনায় তার কোনো বালাই থাকছে না। এর ফলে দিবাগত গভীর রাতে কিংবা প্রত্যুষেও দেশি ও বিদেশি ফ্লাইটগুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে তিন দশমিক সাত কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে এবং একটিমাত্র সমন্বিত টার্মিনাল নিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা ঘটছে। এই রানওয়েতে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির বিমানগুলোর একটি, অর্থাৎ এয়ারবাস এ৩৮০ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারবে। প্রথম বছর এক কোটি যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, পরবর্তী সম্প্রসারণ ধাপে দ্বিতীয় রানওয়ে ও নতুন টার্মিনাল যুক্ত করে এই ধারণক্ষমতা আট কোটিতে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই আকাশপোর্টের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কোনো চিরাচরিত বা প্রথাগত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ আধুনিক ডিজিটাল রিমোট প্রযুক্তির সহায়তায় সব ধরনের উড়োজাহাজের গতিবিধি ও চলাচল অত্যন্ত সুচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

মূলত উনিশশো ছেচল্লিশ সালে তৎকালীন লেবার প্রশাসনের হাত ধরে সিডনিতে আরেকটি বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার ভাবনা সর্বপ্রথম জনসমক্ষে এসেছিল। পরবর্তীতে উনিশশো ছিয়াআশ সালে লেবার দলের আমলেই ব্যাজেরিস ক্রিকে এক হাজার সাতশ আশি হেক্টর ভূমি হুকুমদখল করা হলেও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘকাল থমকে ছিল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর চৌদ্দ সালে লিবারেল জোট প্রশাসন চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিলে আঠারো সালের সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয়। অবশেষে পুনরায় লেবার দলের শাসনকালে চলতি বছরের জুলাই মাসে কার্গো বা মালবাহী বিমান চালুর মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে এবার যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত পালা এসেছে।

উদ্বোধনী পর্বে অভ্যন্তরীণ আকাশপথগুলোতে স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা জেটস্টার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার নিউজিল্যান্ড এবং ভিয়েতজেট কোম্পানির মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও এখান থেকে নিজেদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এছাড়া আগামী সাতাশ সালের মধ্যেই কোয়ান্টাস এবং কাতার এয়ারওয়েজও এই ঘাঁটি থেকে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার খবরে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে দারুণ স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইছে। তবে আধুনিক ও দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ঘাঁটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা একটি বড় ধরনের পরীক্ষা হিসেবে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই সঙ্গে মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে দূরত্বের প্রতিকূলতা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হলেও এটি রাজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে।

পুরো বিমানবন্দরটি নির্মাণ করতেই পাঁচ দশমিক তিন বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ছেচল্লিশ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। তাছাড়া আধুনিক মেট্রোরেল এবং মোটরওয়েসহ যাবতীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ পঁচিশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার বাংলাদেশি মুদ্রার পরিমাণ প্রায় দুই লাখ সতেরো হাজার কোটি টাকা।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদ অধিবেশন: প্রথম দিনে রয়েছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

সংসদ অধিবেশন: প্রথম দিনে রয়েছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি