নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৫৩টি। একই সঙ্গে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষার স্তরে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলregistered সর্বমোট অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭২টিতে। এর মধ্যে ৫৬টি সরকারি এবং ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
পাশাপাশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশে মোট ২ হাজার ২৫৭টি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ভেতরে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৫৫৫টি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্নাতক পাস বা ডিগ্রি প্রদানকারী কলেজ রয়েছে ১ হাজার ৯২১টি, আর স্নাতক বা সম্মান কোর্স চালু আছে এমন কলেজের সংখ্যা ৮৮১টি। এছাড়া স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে ১৭৬টি কলেজে এবং বিভিন্ন ধরনের পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি।
সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর অত্যন্ত বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করছেন। কিন্তু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মতে, নামেমাত্র গড়ে ওঠা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি ও উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ হলো, নতুন পাবলিক ও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার পরিবেশ এবং বাজারের চাহিদাভিত্তিক সাবজেক্ট বা বিষয় অনুপস্থিত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন বহু কলেজের অবস্থাও একই রকম নাজুক।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি বছর যে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছেন, সেই তুলনামূলক হারে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। তাছাড়া অনেকেই শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদার উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারছেন না। এর ফলে সার্বিকভাবে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমাদের উচ্চশিক্ষার মূল সমস্যা হলো, আমরা শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তুলি না। আমাদের প্রয়োজন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ট্রেডকোর্স ও শর্টকোর্সের ব্যবস্থা করা। কারিগরি শিক্ষায় যদি শিক্ষার্থীদের টানতে হয়, তবে সবার আগে এই খাতকে সামাজিকভাবে মর্যাদা দিতে হবে। একসময় নার্সিং পেশায় কেউ যেতে চাইত না, অথচ এখন অনেকেই যাচ্ছে। একজন শিক্ষিত মানুষও যে সেলস ট্রেড কিংবা হেয়ার কাটিংয়ের মতো পেশায় যেতে পারেন, সেই বিষয়টি সমাজকে স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর