ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শর্ত ভেঙে ড্রোন হামলায় স্টারলিংকের অপব্যবহার: মাস্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
শর্ত ভেঙে ড্রোন হামলায় স্টারলিংকের অপব্যবহার: মাস্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইউক্রেনে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেওয়ার পর স্টারলিংকের ব্যান্ডউইথ বা গতি সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। গত শনিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই পোস্টে মাস্ক বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বেসামরিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা স্টারলিংক নেটওয়ার্ক কখনোই মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলা পরিচালনার কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের ব্যবহারের কোনো নৈতিক সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের মূল চুক্তির শর্তগুলো লঙ্ঘন করেছে এবং তারা শত্রুর ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালাতে ড্রোন পরিচালনায় এটি ব্যবহার করেছে। মাস্ক আরও জানান যে, বিগত সপ্তাহে এমন অপব্যবহারের সব আইনি ও প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকড় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্টারলিংকের সামরিক রূপ হিসেবে পরিচিত ‘স্টারশিল্ড’ নেটওয়ার্কে সম্প্রতি যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের হাতে রয়েছে বলে জোরালো দাবি করেছেন এলন মাস্ক। উল্লেখ্য যে, এই স্টারশিল্ড সার্ভিসটিই মূলত ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ড্রোন অভিযান এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। এর পাশাপাশি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে স্পেসএক্স যে অসামান্য ভূমিকা পালন করে চলেছে, সেটির পক্ষেও জোরালো অবস্থান নেন এই ধনকুবের।

গত সপ্তাহে স্টারশিল্ড প্রকল্পের ওপর হঠাৎ করে নানা ধরনের বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপ করার ফলে ইউক্রেনের সরকারি ও সামরিক উচ্চপর্যায়ের মহলে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনের সামরিক কমান্ডাররা গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধাতকদের জানান যে, এই আকস্মিক কড়াকড়ির কারণে বেশ কিছু ড্রোন চিরতরে হারিয়ে গেছে এবং তাদের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত ও ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগের এই জটিল পরিস্থিতির একটি আপাত অবসান ঘটল। গত বুধবার রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, তারা আগামী মাসে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সঙ্গে পুনরায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রুশ কতৃক দখলকৃত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর ওলেশকির আশেপাশের এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সম্মত হয় কিয়েভ ও মস্কো। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সরাসরি মধ্যস্থতার ফলেই এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে উদ্ভূত এই অনভিপ্রেত ঘটনা ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা ও দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর আগে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কথিত গোপন সমঝোতা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে ওই ধরনের সমঝোতাকে তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে এক ধরণের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।

ইন্টারনেট সেবা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সরাসরি সংলাপকে। তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই সংলাপের সার্বিক ফলাফল তাদের নিজস্ব সম্মুখসারি, সশস্ত্র বাহিনী, ড্রোনের কার্যক্রম, যুদ্ধক্ষেত্রের রসদ সরবরাহ এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষায় কতটা কার্যকরভাবে কাজে এসেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি নেওয়ার পেছনে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা বা নির্দেশ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি কড়া সুরে বলেন যে, এই বিশেষ পরিস্থিতির জন্য কখনোই এলন মাস্ককে এককভাবে দোষারোপ করা উচিত হবে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে এলন মাস্কের সার্বিক সমন্বয়ের বিষয়টি কিছুটা ইঙ্গিত দিলেও, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পুরো প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শিশুদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও প্রশাসনের সমন

শিশুদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও প্রশাসনের সমন