নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বান্ধবীর বাসায় দাওয়াতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া এক প্রবাসী দম্পতির জিম্মি ও লুটের ঘটনার মামলায় এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রবিবার রাতে রায়পুর পৌর শহরের একটি বাসা থেকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী দম্পতি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সাথী নামের এক নারী তাঁর বান্ধবী মিলি ও মিলির স্বামীকে নিজ বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।
আমন্ত্রণ রক্ষা করতে ওই দম্পতি বাসায় উপস্থিত হলে হঠাৎ একদল লোক জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। তারা অতিথি মিলির সঙ্গে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে শুরু করে এবং প্রতিবাদ করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বেধড়ক মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা এ সময় ঘরে থাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং বিদেশের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ডসহ একটি ব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাদী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাদের একটি আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের নানাভাবে হেনস্তা করে ভিডিও ধারণ করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী স্বামী হামলাকারীদের কাছে নিজেদের বৈধ বিয়ের ছবি প্রমাণস্বরূপ প্রদর্শন করলে তারা নানা ধরনের হুমকি ও ধমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।
এই ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। রায়পুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি কাউসার আলম মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন বয়াতি সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই।
تاهم، কাউসার আলম মোল্লা আরও উল্লেখ করেন যে রিয়াদ হোসেন বর্তমানে পৌর কৃষক দলের সভাপতি পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, পুলিশের সামগ্রিক মামলার তদন্তে রিয়াদ হোসেনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে এবং সেই সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও যোগ করেন যে এই মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউছুফ নামের অপর এক আসামিকে ইতিপূর্বেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের জোরালো অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর