নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢেপটিগুড়া গ্রামের এক কৃষক শরিফুল্লাহ তার নাতিকে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কোনো ধরনের ওষুধই তাকে দেওয়া হয়নি। বরং ইতিমধ্যে তাকে ৭০০ টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে এবং চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রের বাকি ওষুধগুলোও বাইরে থেকেই কেনার নির্দেশ রয়েছে।
ভূল্লী উপজেলার লাউথুতি গ্রামের রুমা তার দুই বছরের শিশু রুহুল আমিনকে নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শিশুটির গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে জ্বর চলছে। রুমার ভাষ্যমতে, হাসপাতালে ভর্তির পরও তাকে বিনামূল্যে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালে আসার পূর্বে তিনি ১ হাজার ৩০০ টাকার ওষুধ কিনেছিলেন এবং চিকিৎসকরা সেগুলো বাদ দেওয়ার পর নতুন করে আরও ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছেন।
সন্তানের জ্বর ও টাইফয়েড নিয়ে চার-পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করা অর্নিতা আক্তারও একই ধরনের নানা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, গত পাঁচ দিনে তাকে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে এবং টিউবওয়েলের হাতল বাঁধা থাকায় সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের শৌচাগারের পরিবেশও অত্যন্ত নাজুক বলে জানিয়েছেন রোগীরা। অর্নিতা আক্তারের বর্ণনা অনুযায়ী, দুটি শৌচাগারের একটি ময়লা জমে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে, যার ফলে একমাত্র সচল শৌচাগারটিকেই সবাইকে অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ঠান্ডা ও বুকে কফ জমার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর অভিভাবক মো. নূর হোসেনও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি কোনো ওষুধ পাননি এবং বাইরে থেকে নতুন মেডিকেল টেপ কিনে আনার পর সেটি রেখে তাকে প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া একটি পুরোনো টেপ সরবরাহ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর