ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শিশুর মানসিক সংকটে অভিভাবকদের করণীয় জানালেন দুই বিশেষজ্ঞ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
শিশুর মানসিক সংকটে অভিভাবকদের করণীয় জানালেন দুই বিশেষজ্ঞ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত কার্যালয়ে সম্প্রতি একটি বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভার আয়োজন সম্পন্ন করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গত ২০২৫ সালের ২ আগস্ট আয়োজিত হয় ১৭১তম বিশেষ পরামর্শমূলক এই সভাটি।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও প্রখ্যাত অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল এবং বিশিষ্ট মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেখলা সরকার।

উক্ত আয়োজনে মূলত ‘সন্তানের মনের সংকটে অভিভাবকের করণীয়’ শীর্ষক স্পর্শকাতর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন আমন্ত্রিত দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আজকের প্রতিবেদনে সেই আলোচনা থেকে উঠে আসা একটি বিশেষ পরামর্শ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

বর্তমান সময়ে শিশুদের সঠিক মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং তাদের যেকোনো ধরনের বেপরোয়া আচরণ কঠোর হাতে রোধ করার উপায় সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করেছেন অধ্যাপক মোহিত কামাল।

আলোচনাকালে তিনি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকেরা প্রায়শই তাদের নিজ সন্তানের আবেগ ও মৌলিক চাহিদাগুলো ঠিকমতো অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

শুধু তাই নয়, অনেক অভিভাবকই সন্তানদের মনের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না, যার ফলে পারিবারিক দূরত্ব দিন দিন আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবার থেকে এমন অনভিপ্রেত বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়ে কোমলমতি শিশুরা একপর্যায়ে মারাত্মক ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা আত্মপরিচয়ের সংকটে নিপতিত হয়।

এই ধরণের সংকটময় পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে শিশুদের নিজস্ব আত্মবিশ্বাস আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে থাকে এবং তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে রক্ষা করতে অভিভাবকদের সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল।

প্রথমত, সন্তানের সঙ্গে পরিবারের সব সদস্যের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং একটি চমৎকার যোগাযোগের অনুকূল পরিবেশ নিজ দায়িত্বে তৈরি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার সময় সন্তানদেরও সেই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি একটি কাজ।

সন্তানরা কোনো মতামত প্রকাশ করলে তাকে হেয় না করে বরং তাদের প্রতিটি মতামতকে অভিভাবকদের যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।

পরিবারে এমন ইতিবাচক চর্চা অব্যাহত থাকলে খুব সহজেই শিশুর নিজস্ব আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।

তৃতীয়ত, কোনো অবস্থাতেই সন্তানের মতামত বা ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত বা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

অভিভাবকরা যদি এমন জবরদস্তিমূলক আচরণ করেন, তবে শিশুরা ক্ষুব্ধ হয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া ও বিধ্বংসী আচরণ করতে শুরু করতে পারে।

তাই সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পাশাপাশি সুদৃঢ় আস্থার একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা অতীব জরুরি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
খেলাধুলার ব্যস্ততায় পূজার আনন্দ থেকে দূরে ক্রিকেটার শুভাগত হ

খেলাধুলার ব্যস্ততায় পূজার আনন্দ থেকে দূরে ক্রিকেটার শুভাগত হ