ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন না দিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন না দিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের পাঁচ ধরনের বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং বাড়ি বা শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ।

বর্তমানে বাংলাদেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী ব্যক্তি রয়েছেন। এর বিপরীতে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে রিটার্ন দাখিল করেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা, যার ফলে বাকি ৭৫ লাখ করদাতা এখনো রিটার্ন দেওয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন।

আইন অনুযায়ী সব টিআইএনধারীর জন্য রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, কেবল করযোগ্য আয় থাকলেই তা দিতে হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ধরনের ৪৫টি সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বা এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অনেকেরই করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না। ফলে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়েছে।

আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে কর কর্মকর্তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এই নিয়মে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়।

এই জরিমানের পরিমাণ সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা হারে জরিমানা আরোপ করার এখতিয়ার রয়েছে কর্মকর্তাদের।

কোনো বিশেষ তদন্তের অংশ হিসেবে রিটার্নের প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করা হলে তা প্রদানে ব্যর্থ হলেও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আইনগতভাবে কর অব্যাহতির সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কর অব্যাহতির ক্ষেত্রগুলো সীমিত করা হয়ে থাকে।

সাধারণত প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ছাড় পাওয়া যায়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে এই ধরনের কোনো কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে রিটার্ন জমা প্রদানে ব্যর্থ হলে প্রতি মাসে নির্ধারিত বা আরোপিত করের পরিমাণের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে সরল সুদ বা কর পরিশোধ করতে হবে।

সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার কারণে করদাতাদের আবাসিক বাড়ির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিল্পকারখানার মালিকেরা যদি তাঁদের নিজ প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন জমা না দেন, তবে তাঁদের কারখানার সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব।

শুধু বিদ্যুৎ বা গ্যাস নয়, এর পাশাপাশি পানি কিংবা অন্যান্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগও এই নিয়মের আওতায় বিচ্ছিন্ন করা যাবে।

সরকারি এবং বেসরকারি চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উচ্চ গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে তাঁদের বেতন-ভাতা উত্তোলনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।

সাধারণত বিভিন্ন অফিস থেকে রিটার্ন জমা দেওয়ার কাগজ বা কপি চাওয়া হয়, আর তা প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন-ভাতা কেটে রাখার মতো ঘোষণাও দেওয়া হয়ে থাকে। বেসরকারি খাতের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের বেলাতেও এই একই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হয়।

চলতি অর্থবছর থেকে সম্পূর্ণ সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দিলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে সেই সময়ে যে পরিমাণ কর নির্ধারিত হবে, ঠিক ততটুকুই পরিশোধ করতে হবে। আর জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

মূলত একটি অর্থবছর পেরিয়ে যাওয়ার পরই কেবল রিটার্ন-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট জরিমানা, বাড়তি কর এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো কার্যকর করা হয়ে থাকে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ

আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ