নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরকালের অনন্ত জীবনে মানুষের সফলতার চাবিকাঠি হলো নামাজ। পরকালে বিচার দিবসে আল্লাহর দরবারে মানুষের প্রতিটি কাজের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। এই প্রথম হিসাবের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে একজন বান্দার অন্যান্য সকল আমলের বিচারকার্য কীভাবে নির্ধারিত হবে।
এ বিষয়ে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি স্বয়ং রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে, বিচারদিবসে মানুষের সমস্ত আমলের মাঝে সবার আগে নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যদি এই প্রাথমিক হিসাব সঠিক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, তবে সেই বান্দা পরম কল্যাণ লাভ করবে এবং চূড়ান্তভাবে সফলকাম হবে।
পক্ষান্তরে, যদি বিচারকালে নামাজ সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সেই ব্যক্তি শোচনীয়ভাবে বিফল ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। জামে তিরমিজি গ্রন্থের ৪১৩ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনাটি বর্ণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত ইবাদতটি যথাযথ নিয়মে পালন না করার ভয়াবহ পরিণতির কথাও হাদিসে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নিয়মিত ও সঠিকভাবে নামাজ আদায় করবে, আখিরাতের কঠিন দিনে সেই নামাজ তার জন্য উজ্জ্বল নূর বা আলো এবং মুক্তির পক্ষে শক্তিশালী দলিল হিসেবে আবির্ভূত হবে।
যাঁরা অবহেলাবশত এই ফরজ ইবাদতটি সঠিকভাবে আদায় করবেন না, বিচারদিবসে তাঁদের জন্য কোনো ধরনের আলোর ব্যবস্থা থাকবে না। সেদিন তাদের পক্ষে আল্লাহর দরবারে পেশ করার মতো কোনো দলিলও থাকবে না এবং তাদের নাজাত পাওয়ার কিংবা মুক্তির কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকবে না।
অধিবেশন ও পরকালের সেই কঠিন দিনে নামাজে অবহেলাকারী ব্যক্তি ইতিহাসের কুখ্যাত চরিত্র কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সঙ্গে নিক্ষিপ্ত হবে। মুসনাদ আহমাদ গ্রন্থের ৬৫৭৬ নম্বর হাদিসে এই কঠোরWarnings ও পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর