নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খেলার মাঠে টেকনিক্যাল এরিয়ার ভেতরে কিংবা বাইরে মিকেল আরতেতার চরম ছটফটানি ও অস্থির আচরণ কোনো নতুন বিষয় নয়। ডাগআউটের সামনে দাঁড়িয়ে কখনো উচ্চস্বরে শিষ্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়া আবার কখনো উত্তেজনার চোটে নির্ধারিত সীমানার বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে গাননার্স বসের এই অতি সক্রিয়তা ও অস্থির মেজাজ ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারিদের কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়, যার ফলে ঘনঘন রেফারিদের পকেট থেকে বেরিয়ে আসছে হলুদ কার্ড।
গতকালের ম্যাচে এভারটনের বিপক্ষে আর্সেনাল দল দুই শূন্য গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি কোচের, আবারও দেখতে হয়েছে হলুদ কার্ড। চলমান প্রিমিয়ার লিগ টুর্নামেন্টে স্প্যানিশ এই কৌশলবিদের নামের পাশে এটি দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের নজির। এখন থেকে নিয়ম অনুযায়ী আর মাত্র একটি মাত্র হলুদ কার্ড দেখার পরিণতি হিসেবে এক ম্যাচের জন্য ডাগআউটে নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে আর্সেনাল ম্যানেজারকে।
কিন্তু বরখাস্তের শঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে মিকেল আরতেতার সুনির্দিষ্ট দাবি হলো ম্যাচ পরিচালনাকারীরা তাঁর ব্যাপারে অতিরিক্ত মাত্রায় কঠোর নীতি অনুসরণ করছেন। তাঁর জোরালো অভিযোগ প্রতিপক্ষের অন্যান্য অনেক প্রশিক্ষক একই ধরনের আচরণ করে শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং নিজের দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সংগ্রহ করছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানেজারদের নিজ নিজ টেকনিক্যাল সীমানা লঙ্ঘনের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফু্টেজের এক বিশাল ভান্ডার ইতোমধ্যে তৈরি করেছেন তিনি।
এভারটন দলের বিপক্ষে লড়াই শেষে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসে আর্সেনাল কোচ মন্তব্য করেন যে এই প্রিমিয়ার লিগে এমন অনেক প্রশিক্ষকও দিব্যি বহাল তবিয়তে আছেন, যাঁরা মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে ছাব্বিশ বার নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল এরিয়া পেরিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েও কোনো রকম হলুদ কার্ড দেখার মুখ পড়েননি।
ম্যানেজার আরতেতা তাঁর এই বক্তব্য ও অভিযোগ কেবল মৌখিক বুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি প্রতিপক্ষ কোচদের আইন অমান্য করার দৃশ্যগুলো নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করছেন। স্প্যানিশ এই কোচ স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে তিনি এমন সব মুহূর্তের ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করছেন এবং বর্তমানে তাঁর কাছে সেগুলোর এক মস্ত বড় ছবি ও ভিডিওর ভান্ডার জমা রয়েছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত আইনকানুন অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচ চলার সময় সব ক্লাবের কোচদের অবশ্যই তাদের নিজ নিজ নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল এরিয়ার ভেতরেই অবস্থান করতে হয়। তা সত্ত্বেও খেলার চরম উত্তেজনার বশে প্রায়শই সেই নির্ধারিত সীমারেখা লংঘন করে থাকেন আর্সেনাল বস, আর ডাগআউটের সামনে তাঁর এই দৌড়ঝাঁপ কখনো কখনো মাঠের উত্তাপকেও ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিদ্বন্দ্বী এভারটনের বিপরীতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি সামগ্রিক বিবেচনায় বেশ উত্তেজনাকর ছিল, যেখানে কেবল একা আরতেতা নন, বরং এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস এবং আর্সেনালের সহকারী কোচ গ্যাব্রিয়েল হেইনজে—উভয়কেই হলুদ কার্ড উপহার দেন ম্যাচ রেফারি টনি হ্যারিংটন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত এজরি কনসা ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের চমৎকার সব গোলে ম্যাচটি নিজেদের অনুকూলে জিতে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির ঠিক সমান পয়েন্ট অর্জন করেছে আর্সেনাল, আর ঠিক একই দিনে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে দুই এক গোলে পরাজিত হয়েছে সিটিজেনরা।
দলের এমন দারুণ সাফল্যে আনন্দিত হওয়া সত্ত্বেও আরতেতার মাথার ভেতর এখন ক্রমাগত ঘুরপাক খাচ্ছে হলুদ কার্ডের অবধারিত চিন্তা। সামনে আর একটা মাত্র কার্ড দেখলেই যে তাঁকে এক ম্যাচের জন্য ডাগআউটের বাইরে থাকতে হবে! এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে স্প্যানিশ কোচের কণ্ঠে মিশে ছিল হালকা রসিকতা, যেখানে তিনি জানান যে তাঁকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং সেখানে তাঁদের উন্নত কোনো সেন্সর স্থাপন করতে হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর