নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চার দিন পর কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এক মুদিদোকানিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত বুধবার রাতে লোহাগাড়া থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আধুনগর বাজারে অবস্থিত নিজের দোকান বন্ধ করে রিকশায় করে লোহাগাড়া সদরের ইটারি রুফটপ রেস্টুরেন্টের পেছনে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ওই ব্যবসায়ী।
পথিমধ্যে জমিদারপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাঁদের রিকশার গতি রোধ করেন। এ সময় তারা রিকশাচালককে মারধর করেন এবং ওই ব্যবসায় Isকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার দিকে নিয়ে যান। পরে রিকশাচালক মো. আমিন বাসায় গিয়ে বিষয়টি ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানান।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী উম্মে আয়মান জানান, ঘটনার দিন রাত ১১টা ১৮ মিনিটে তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তখন তিনি দোকান বন্ধ করার কথা বলে বাসায় কিছু লাগবে কি না তা জানতে চেয়েছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উম্মে আয়মান আরও জানান, গত শনিবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়ায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পাওয়ার খবর পাওয়ার পর তারা খোঁজ নেন। পরে নিশ্চিত হন যে উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি তাঁরই নিখোঁজ স্বামী। এরপর টেকনাফ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না বলে জানান তাঁর স্ত্রী। তিনি জানান, সারাক্ষণ তাঁর স্বামী ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন।
স্ত্রীর ভাষ্যমতে, অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার পরপরই তাঁর স্বামীর মুখ বেঁধে ফেলা হয়েছিল। মুখে কোনো বস্তু লাগানোর ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান যে তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি আবদ্ধ ঘরে তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে এবং খাবার হিসেবে কেবল কলা ও পাউরুটি দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও প্রথমে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রীর উম্মে আয়মান। তবে পুলিশ জানায় যে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, লোহাগাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর