নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইতালির ক্লাব রাভেন্নার জার্সিতে দীর্ঘ এক দশক পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আবার দেখা যাবে সময়ের অন্যতম সেরা তারকা রোনালদিনহোকে। ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, এই চমকপ্রদ আয়োজন বিশ্ববাসীর পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করবে ইতালির স্টাদিও ব্রুনো বেনেল্লি স্টেডিয়ামের দিকে।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এই ঘটনাটিকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন উল্লেখ করে ক্লাবটি জানায়, তারা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এক বর্ণাঢ্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিচ্ছে। সবুজ মাঠে ফিরছে সেই চিরপরিচিত জাদু, সেই চেনা হাসি এবং এমন এক জাদুকরি প্রতিভা, যিনি যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন দলের অসংখ্য সমর্থককে জাদুতে মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন।
এই ক্লাবের সার্বিক মালিকানা এবং পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড সিপ্রিয়ানির স্বত্বাধিকারী ইগ্নাজিও সিপ্রিয়ানি। তিনি ইতোমধ্যে নিজের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি তারকাকে নিজের দলে খেলিয়ে তাঁর পা দিয়েই ফুটবল ক্যারিয়ারের সর্বশেষ গোলটি করানোর তীব্র স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।
এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাবের অগণিত সমর্থকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে রোনালদিনহোর পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছিল রাভেন্না কর্তৃপক্ষ। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মায়ামি শহরে তাঁর যুক্ত হওয়ার প্রাথমিক ঘোষণা থেকে শুরু করে মারিনা দি রাভেন্নার সৈকতে ভক্তদের দেওয়া অভূতপূর্ব ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্যন্ত তাঁকে ঘিরে মানুষের উন্মাদনা ও আগ্রহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্লাবের সেই বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয় যে, ক্লাব সভাপতি ইগ্নাজিও সিপ্রিয়ানির সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন সাধারণ মানুষের কল্পনাশক্তিকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছিল এবং তা ইতালির ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছিল। আর এখন সেই আকাক্সিক্ষত উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে বেনেল্লির মাঠে বল পায়ে নামবেন রোনালদিনহো এবং এর মধ্য দিয়ে এমন একটি অনন্য গল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে যা সবাইকে নিয়মিত বিস্মিত করে চলেছে।
উল্লেখ্য যে, ইতালির ফুটবলে এটি হতে যাচ্ছে রোনালদিনহোর দ্বিতীয় ইনিংস, কেননা এর আগে ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিনি ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে অত্যন্ত সফলভাবে খেলেছিলেন। নিজের বর্ণময় ও বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার মতো বিশ্বখ্যাত দলের জার্সি গায়েও মাঠে নেমেছিলেন। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি অত্যন্ত সফল, যার মধ্যে রয়েছে ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি জয় এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অর্জন করা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর