নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর জনবহুল ও সংবেদনশীল দয়াগঞ্জ রেলক্রসিংয়ের পার্শ্ববর্তী গুমটিঘর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে। গত শুক্রবার সংঘটিত এই সাঁড়াশি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধমূলক অপকর্মে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার স্পষ্ট অভিযোগে সর্বমোট আঠারো জন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় চলা নিয়মিত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এই অভিযানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আটককৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযানে যাদের জালে বন্দি করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাব্বিশ বছর বয়সি শামসুল হক, তেইশ বছর বয়সি ইকবাল হোসেন জিহাদ, কুড়ি বছর বয়সি আরাফাত হোসেন শামীম, আঠারো বছর বয়সি আবদুল্লাহ রাহুল, ছাব্বিশ বছর বয়সি মোহাম্মদ হোসেন, বাইশ বছর বয়সি সাইমুর, একুশ বছর বয়সি ইমন, একুশ বছর বয়সি অভি, কুড়ি বছর বয়সি রাফিন, কুড়ি বছর বয়সি জুনায়েদ হোসেন, উনিশ বছর বয়সি সাইদ হোসেন, উনত্রিশ বছর বয়সি আনোয়ার হোসেন, উনিশ বছর বয়সি ইমরান আরাফাত, উনিশ বছর বয়সি মারুফ হোসেন এবং ত্রিশ বছর বয়সি সাহিদুর।
তালিকায় নাম থাকা বাকি সন্দেহভাজন অভিযুক্তদের মধ্যে ছাব্বিশ বছর বয়সি উজ্জ্বল, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি রবিন, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি মাসুদ, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি দুলু, পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সি ফরিদ ব্যাপারী, ছাব্বিশ বছর বয়সি জনি, ত্রিশ বছর বয়সি কবির, তেইশ বছর বয়সি ইউসুফ, তেইশ বছর বয়সি আল রাব্বি, বাইশ বছর বয়সি শুভ, পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি শাওন ও পঞ্চাশ বছর বয়সি সেন্টু মিয়াকে এ সময় পাকড়াও করা হয়। শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নয়, বরং স্থানীয় একটি সংঘাতপূর্ণ অপ্রীতিকর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ঠিক এই একই কৌশলগত গুমটিঘর এলাকাটি গত ১৭ অক্টোবর তারিখে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ওই নির্দিষ্ট দিনে আগ্নেয়াস্ত্র প্রকাশ্যে উঁচিয়ে একটি তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন, যা পরবর্তীতে সর্বস্তরে মারাত্মক বাদানুবাদ ও বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সুউচ্চ পদটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল তাঁকে।
বিতর্কিত ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ঠিক পরপরই ১৯ অক্টোবর তারিখে সরকারি উদ্যোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের যৌথ দল ওই একই স্থানে পুনরায় অভিযান চালায়। সেদিনকার সেই ঝটিকা অভিযানে মোট পনেরোজন ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে পেরেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ধৃত প্রত্যেককে তিন মাসের কঠোর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং এর পাশাপাশি একশ টাকা করে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছিল।
এর ঠিক ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর তারিখেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল ওই একই স্থানে পুনরায় আরেকটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। সেদিনকার সেই তল্লাশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন আরও তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। একের পর এক এসব কঠোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের আখড়া হিসেবে পরিচিত ওই অঞ্চলটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর