নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ এক নেতার সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যকে পুরোপুরি ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই আদালতের একজন কৌঁসুলি। গত রোববার আদালতের আঙিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ে আদালত অবমাননার দায়ে এবি পার্টির এক শীর্ষ নেতাকে আগামী চৌঠা নভেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও গণমাধ্যমকর্মীদের জানান ওই আইন কর্মকর্তা। এই আদেশটি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নিজের উদ্যোগে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৌঁসুলি জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে কেবল যেসব অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন, কেবল তাঁদেরই বিচারকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং হাজারে হাজারে উপস্থিত থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রায় প্রদান করা হচ্ছে না।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে রাজনৈতিক নেতার এমন অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। এই ধরনের দাবিকে তারা পুরোপুরি অসত্য বলে গণ্য করছেন এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
আইনজীবীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব আসামি আদালতে উপস্থিত থাকেন না এবং পালিয়ে বেড়ান, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। তাঁরা সাধারণত রাষ্ট্রপক্ষের পেশ করা বিভিন্ন প্রামাণিক কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করেই বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
পক্ষান্তরে, যেসব অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে সরাসরি হাজিরা দেন, তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো একাধিক নামী আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে প্রায়শই নানামুখী আইনি প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
উপস্থিত আসামিরা সশরীরে এজলাসে উপস্থিত থেকে নিজ আইনজীবীদের সরাসরি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই স্বাভাবিক কারণেই উপস্থিত আসামিদের মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি হয় এবং শেষ হতে বেশি সময় লাগে।
কৌঁসুলি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত কক্ষের উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো বিচারকাজ বা রায় হচ্ছে না। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং বাস্তব পরিস্থিতির পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও তথ্য দেওয়া হয় যে বর্তমানে আদালতে হাজিরা দেওয়া বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আসামির মামলার বিচারিক কার্যক্রম একেবারে অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। পলাতক অভিযুক্তদের মামলার তুলনায় উপস্থিত আসামিদের বিচার শেষ করতে স্বাভাবিকভাবেই কিছু অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়।
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মামলার বিচার এখন শেষের পথে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর