নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মালিকানাধীন সম্পত্তির অর্ধেক অংশ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। আজকের দিনেই এই বিশেষ চিঠিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অবস্থিত নিজস্ব দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে উপরোক্ত দুই শীর্ষ ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন।
আদেশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের সমগ্র সম্পত্তির অর্ধেক সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার পর তা পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরবর্তীতে সরকারি তরফ থেকে নিয়মমাফিক নিলাম কিংবা অন্যান্য আইনগত বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে এই সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি সম্পন্ন করা হবে।
বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশনের তহবিল অথবা বৈধ অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই অর্থ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে তাদের মাঝে বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, ট্রাইব্যুনালের রায়ে যাঁদের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যেসব দণ্ডিতের উচ্চ আদালতে আপিল করার নির্ধারিত আইনি সময়সীমা ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও ধাপে ধাপে ক্রোক করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এই উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পর্যায়ক্রমে চিঠি প্রদান করা হবে যাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর তারিখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ঐতিহাসিক সেই রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আদালত তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও জোরালো নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের সেই আদেশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর