নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দেশটির নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের ইয়াশার দল নির্বাচনে একুশটি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের যৌথ পরিচালনায় টুগেদার জোট অর্জন করতে পারে বারোটি আসন। অন্যদিকে ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস দল আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসনে জয়লাভ করতে পারে।
অন্যদিকে বিভিন্ন আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা বেড়ে বর্তমানে উনিশটিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে বারোটি এবং রা’আম দল সাতটি আসন লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ফলাফল বজায় থাকলে, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে কে সরকার গঠন করবে, সেই ভাগ্য নির্ধারণে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।
সর্বশেষ প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলের কারণে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে কোনো ধরনের ঐক্যের সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইজেনকট স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত কোনো সরকারে অংশ নেবেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী পদ পর্যায়ক্রমে আবর্তনের এমন কোনো প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত সরকারেও তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিরোধী জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
এদিকে আইজেনকট বিরোধী জোটের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এই বিশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধী জোটের ভেতরের দলগুলোর মধ্যে এখনো পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্য বা সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
সর্বশেষ পাওয়া ফলাফল এবং বিভিন্ন এক্সিট পোলের হিসাব বিচার করলে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও সামনে চলে আসছে, যারা পার্লামেন্ট বা নেসেটের আস্থা ভোটে জয়লাভ করার ক্ষমতা রাখে। তবে এই ধরনের সরকারের হাতে নেসেটে একষট্টি আসনের প্রয়োজনীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। তাছাড়া আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষ য়ে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মহলে নানা আপত্তি থাকায় এমন ধরনের সরকার গঠন করাও বেশ জটিল রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে চলমান এই গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে পুনরায় আরেকটি নতুন নির্বাচনের দিকে পরিচালিত করতে পারে। তবে তার পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যকার পারস্পরিক জোট গঠনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষীণ সম্ভাবনাও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এ প্রসঙ্গে ডেমোক্র্যাটসের শীর্ষ চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান দাবি করেছেন যে, ২০২৬ সালের নেসেট নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে দাবি করেন যে, আরব দলগুলোর আসনগুলোকে যদি বিরোধী জোটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে তাদের মোট আসনসংখ্যা গিয়ে পৌঁছাবে পঁয়ষট্টিটিতে।
বুধবার সকালে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে তিনি একশো কুড়ি পর্যন্ত গুনতে জানেন এবং পঁয়ষট্টি সংখ্যাটি যে পঞ্চান্নর চেয়ে বড়, সেটি বলাই বাহুল্য। ইসরায়েলি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঠিক এভাবেই কাজ করে থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোলান তার বক্তব্যে আসন্ন নতুন সরকারে আরব দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেন যে, নেতানিয়াহু যদি শেষ পর্যন্ত কোনো জায়োনিস্ট জোট গঠন করার কথা বিবেচনা করেন, তবে তাকে অবশ্যই নিজের জোট থেকে নন-জায়োনিস্ট হেরেদি দলগুলোর ষোলো জন সংসদ সদস্যকে বাদ দিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে তাদের হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং দেশের প্রতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বও রয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের সঙ্গে পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সরকার গঠন করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা দেশের সকল নাগরিকের কল্যাণে সমানভাবে কাজ করবে।
এদিকে জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিনও বর্তমান নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেexpressed করেন যে, চলমান রক্তপাত, রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ এবং বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিকল্প রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন। ইহুদি ও আরব জনগণের যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পরবর্তীতে জনপ্রিয় সম্প্রচার মাধ্যম আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের সংসদীয় দলের প্রধান এবং হাদাশ-তা’আল দলের শীর্ষ নেতা আহমাদ তিবিও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বিরোধী জোট যদি সামান্য রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারে, তবে তারা সহজেই সরকার গঠন করতে সমর্থ হবে। আরব দলগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি এ সময় জোরালোভাবে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর