ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছেন ভ্যান্স

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছেন ভ্যান্স ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশ ও অনুমতি নিয়েই তেহরানের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে এমন কোনো সমঝোতা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করে দেখছেন ভ্যান্স। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে কোনো ধরনের স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখতে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমনটাই ধারণা যে, ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতাদের সঙ্গে যদি কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে সেখান থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন। এরপর থেকেই তেহরানের রাজনীতিতে এই কট্টরপন্থী নেতারা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বর্তমান প্রশাসন ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বা পরোক্ষ আলোচনা চালাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এমন একটি ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, তেহরানের ওপর যেকোনো মুহূর্তে শিগগিরই সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। সে সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই মুহূর্তে আমরা তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করছি না। যেকোনো উপায়ে একটা কিছু খুব দ্রুত ঘটতে যাচ্ছে এবং সেটা খুবই সমাগত।

বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবহিত অপর এক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি ভ্যান্সের পাঠানো সেই চিঠি এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে সমস্ত অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোতে সুনির্দিষ্ট কোনো শান্তি প্রস্তাবের খুঁটিনাটি বিষয় স্থান পায়নি। বরং বর্তমানের এই চরম বৈরিতা দূর করে আগামী দিনে আলোচনার জন্য সম্ভাব্য একটি সঠিক কাঠামো বা রূপরেখা তৈরির বিষয়ের ওপরই মূলত সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা রেজায়ী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তেহরানের কিছু মৌলিক ও নায্য দাবি যতদিন পর্যন্ত পূরণ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে বসবে না ইরান।

যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানে এক ধরনের অন্তর্নিহিত দ্বিধাদ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে। জনসমক্ষে বা প্রকাশ্যে তিনি ইরান যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করলেও, ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনায় এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প যখন পূর্বনির্ধারিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তার আগেই ভ্যান্স পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও জোরালো এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের পক্ষে শক্ত যুক্তি দেখিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিশ্বস্ত সহচর ও উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সকে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রধান আলোচক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। বর্তমান এই ভয়াবহ সংঘাতের চির অবসান ঘটাতে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রধান লক্ষ্যের সাথেই ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার উদ্দেশ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে দুবার বিদেশ সফর সম্পন্ন করেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: সরোয়

ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: সরোয়