ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মেঘনা ঘাট-হরিপুর লাইনে ত্রুটির আশঙ্কা গ্রিডে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
মেঘনা ঘাট-হরিপুর লাইনে ত্রুটির আশঙ্কা গ্রিডে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রাজধানী ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলসহ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ কোনো চাহিদাজনিত ঘাটতির পূর্বনির্ধারিত লোডশেডিংয়ের অংশ হিসেবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, বরং মূল জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে আকস্মিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় অজস্র মানুষকে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা ঘাট থেকে হরিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত সঞ্চালন লাইনেই এই গোলযোগের প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে পাওয়ার গ্রিড পিএলসির দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদকর্মীরা, যার মধ্যে নিয়োজিত তদন্ত কমিটির দুজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ মুহূর্তেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, বরং সত্য উদ্ঘাটনে কয়েক দিন পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন পড়ে। তবে এর প্রাথমিক উৎস হিসেবে একটি নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে উচ্চ ভোল্টেজের গ্রিড লাইনের ঠিক নিচে কয়েকটি আকাশমণি গাছের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কাজে সরাসরি যুক্ত থাকা প্রকৌশলীদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন নানাবিধ কারণে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিতে পারে। বৈদ্যুতিক ফ্রিকোয়েন্সির পরিমাণে সামান্য তারতম্য হওয়া, লাইনে নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত কিংবা কম বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়া, এমনকি সচল কোনো তারে কোনো পাখির অবস্থান করা, গাছের ডালপালা ভেঙে নিচে পড়া কিংবা অন্য কোনো জৈব উপাদানের স্পর্শ লাগার কারণেও গ্রিড বন্ধ হয়ে বিপজ্জনক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত বড় ধরনের গ্রিড ট্রাবল হলে ভৌত কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়, তবে চলমান এই দুর্ঘটনায় সেরকম কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাওয়ার গ্রিডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চালন লাইনে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর উদ্দেশ্যে নিয়মিত তদারকি দল মাঠে তৎপর থাকে এবং লাইনের আশেপাশে কোনো গাছের ডালপালা থাকলে তা কেটে পরিষ্কার করা হয়। নির্দিষ্ট ওই মেঘনা ঘাট ও হরিপুর লাইনের মধ্যবর্তী কোনো এক স্থানে বেশ কয়েকটি আকাশমণি গাছ রয়েছে, যেখানকার ডালপালা হয়তো গাছ কাটার দুই বা তিন দিনের মধ্যেই পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গাছগুলো সরাসরি তারের সংস্পর্শে আসেনি, কিন্তু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইভোল্টেজ লাইনের দুই মিটারের ভেতরে গাছের শাখা প্রবেশ করলে 'ফ্লাশ ওভার' প্রক্রিয়ায় শর্টসার্কিট ঘটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানের এই ঘটনার ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার ফলে একটি সার্কিট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশের সার্কিটের ওপর সমস্ত লোড পড়ে সেটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে, আর এর পরিণামস্বরূপ সংশ্লিষ্ট লাইনের আওতাধীন পুরো অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চিরতরে থমকে যায়।

সঞ্চালন লাইনের নানাবিধ ত্রুটি ও তদারকি ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মেঘনা ঘাট-হরিপুর অংশের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমরান আলী কোনো প্রকার মন্তব্য প্রদান করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

বিদ্যুৎ খাতের বিশারদদের মতে, সাধারণত দুটি আলাদা সার্কিটের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মেঘনা ঘাট-হরিপুর লাইনে দুটি ভিন্ন সার্কিটের মোট চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বহনের সক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে প্রতিটি সার্কিট দুইশ মেগাওয়াট করে ধারণ করতে পারে। গোলযোগের ঠিক আগমুহূর্তে লাইন দুটিতে দেড় শ মেগাওয়াট করে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি সার্কিট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরটির ওপর তৎক্ষণাৎ তিনশ মেগাওয়াট লোডের অতিরিক্ত চাপ এসে পড়ে। লাইনের নির্ধারিত সক্ষমতার অতিরিক্ত এই চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় ওই দ্বিতীয় লাইনটিও বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ধারাবাহিকতায় একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হতে শুরু করে। যদিও সঞ্চালন লাইন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছিল, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে নতুন করে আবার উৎপাদন শুরু করে তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবেই খানিকটা দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তথা পিডিবি এবং পাওয়ার গ্রিডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল দুপুর বারোটার ঠিক সময়টায় সারা দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল পনেরো হাজার মেগাওয়াটের চেয়েও বেশি। এরপর পৌনে একটার দিকে যখন জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় নেমে আসে, তখন মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ ধস নেমে দশ হাজার মেগাওয়াটে এসে ঠেকে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকা যেমন ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও, বাংলামটরসহ আরও অনেক এলাকা এবং চট্টগ্রামের আংশিক অংশ সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর জাতীয় গ্রিড পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়, তবে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সব গ্রাহকের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পুরোপুরি পৌঁছাতে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়ে যায় এবং এমনকি গভীর রাত দুইটার সময়েও দুই হাজার মেগাওয়াট পরিমাণ লোডশেডিং বলবৎ রাখতে হয়েছিল।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ও পাওয়ার গ্রিডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এখনো সব প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি হাতে এসে পৌঁছায়নি। সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিজিটাল ডেটা রেকর্ডার স্থাপন করা রয়েছে, যেখান থেকে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। তবে এই বিপর্যয়ের পরপরই স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা সিস্টেম বা প্রটেকশন সিস্টেম দক্ষতার সঙ্গে কাজ করায় বড় ধরনের কোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও একই সঙ্গে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত গরমের কারণে গতকালের দিনে বিদ্যুতের সার্বিক চাহিদাও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক বিঘ্নের প্রকৃত কারণ নিখুঁতভাবে উদ্ঘাটন করা এবং অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশ করার জন্য গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী পাঁচ কার্যদিবসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সম্মানিত প্রধান সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তাঁরা ইতিমধ্যেই তাদের নির্ধারিত তদন্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দিয়েছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার ব্যাপারে তারা সচেষ্ট থাকবেন।

অন্যদিকে, আজ বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক আদেশে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের এই আকস্মিক বিপর্যয়ের মূল কারণ খুঁজে বের করা এবং সুদূরপ্রসারী সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজাকে প্রধান করে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে আরও একটি পাঁচ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তাদের বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত রয়েছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ বিশাল পরিমাণে সংরক্ষণ বা জমিয়ে রাখার কোনো প্রযুক্তিগত সুযোগ মানুষের হাতে নেই, বরং এটি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করতে হয়। এই কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদিত হওয়ার পর সেই বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে প্রেরণ করা হয় এবং বিভিন্ন সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে এই গ্রিড দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় গ্রিড মূলত প্রধান দুটি ভাগে বিভক্ত রয়েছে। যমুনা নদীর পূর্ব তীরের ঢাকাসহ প্রায় সব জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডের মাধ্যমে, আর যমুনা নদীর পশ্চিম তীরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের কাজটি সম্পন্ন হয় পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্রিডের সাহায্যে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডের তুলনায় পূর্বাঞ্চল গ্রিড প্রায় তিন গুণ বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বিগত দিনে কেবল পিডিবি একা সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করত, কিন্তু বর্তমানে এই খাতে অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হয়েছে এবং এর পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকেও সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ এসে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যদি যথাযথ সমন্বয় সাধিত না হয়, তবে বৈদ্যুতিক ফ্রিকোয়েন্সির পরিমাণে মারাত্মক তারতম্য ঘটার উচ্চ ঝুঁকি থেকেই যায়। তাছাড়া, অনেক বড় বড় শিল্পকারখানা সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করে থাকে। তারা যদি হঠাৎ করে নিজেদের উৎপাদন কার্যক্রম আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেয় কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ টেনে নেয়, তবে জাতীয় লোড ও ডিসপাচ সেন্টার বা এনএলডিসির প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার বড় ধরনের অবকাশ থেকে যায়। এমতাবস্থায় সার্বিক গ্রিড ব্যবস্থাপনার ওপর আরও কঠোর জোরদার নজরদারি বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা বুয়েটের সম্মানিত সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী গতকাল সংবাদমাধ্যমকে মন্তব্য করে জানান যে নানা কারণে সঞ্চালন লাইনে লাইন ট্রিপ করার মতো ঘটনা ঘটতে পারে, যার অর্থ হলো হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সঞ্চালন লাইনের কোনো একটি লাইন যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে অপর লাইনটির পুরো সিস্টেমের সমস্ত লোড একা একাই সফলভাবে গ্রহণ করার পূর্ণ সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ধরনের পর্যাপ্ত কাঠামোগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। সামগ্রিক পাওয়ার সিস্টেম সিকিউরিটি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি, নতুবা বারবার এই ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাওয়ার সিস্টেম সিকিউরিটি বলতে মূলত এমন একটি বিশেষ সুসংহত ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ত্রুটি কিংবা দুর্ঘটনা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হলেও সমগ্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল অবস্থায় বহাল থাকতে পারে, সেই ধরনের পর্যাপ্ত শারীরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
নিরাপত্তা ঝুঁকির মাঝেও চালু রিয়াদ বিমানবন্দর

নিরাপত্তা ঝুঁকির মাঝেও চালু রিয়াদ বিমানবন্দর