নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিহতরা সম্পর্কে বাবা ও মেয়ে ছিলেন। এই মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক বাসটিতে আগুন জ্বেলে দেন এবং জনবহুল মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ওপর চড়াও হন বিক্ষুব্ধ অবরোধকারীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র বলপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু পুলিশই নয়, ঘটনাস্থলে আগুন নেভাতে উপস্থিত হওয়া ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক কর্মীদেরও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ দিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান যে, মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক পুলিশের দিকে তেড়ে আসে এবং পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মারাত্মক দুঃসাহস দেখায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম আরও যোগ করেন যে, ওই দুষ্কৃতকারীরা কেবল পুলিশকেই বাধা দেয়নি, তারা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজেও অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ধাওয়া করলে আক্রমণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পর ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর