নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল 'বিএমজে ওপেন' এ একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় পাঁচটি অত্যন্ত জনপ্রিয় চ্যাটবটকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার ফলাফলে দেখা গেছে যে, প্রাপ্ত উত্তরের প্রায় অর্ধেকই ছিল নানাভাবে সমস্যাপূর্ণ। এমনকি প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ উত্তর ছিল অত্যন্ত গুরুতর মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ।
একটি কাল্পনিক উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। ধরে নেওয়া যাক, গভীর রাত দুটোর সময় মিনহাজ নামের এক ব্যক্তির বুকের ভেতর হালকা ধরনের ব্যথা অনুভূত হতে শুরু করল। কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আগে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কাছে এর কারণ জানতে চাইল। সেখান থেকে উত্তর এল যে এটি নিছক গ্যাসের কোনো সমস্যা হতে পারে। এই কথা শুনে সে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু পরের দিন সকালে চিকিৎসক তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে, বুকের ব্যথা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এ ধরনের ব্যথা সব সময় যে গ্যাসের কারণে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো রোগীকে নিজের চোখে দেখতে পারে না কিংবা তার কোনো শারীরিক পরীক্ষাও করতে পারে না। এটি কেবল ব্যবহারকারীর সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এক ধরণের অনুমান করে মাত্র। এর সত্যতা মেলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত অক্সফোর্ডের একটি গবেষণায়। সেখানে দেখা গেছে যে, চ্যাটবটের সহায়তা নিয়ে সাধারণ মানুষেরা নিজেদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছেন মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে।
এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোনো রোগ নির্ণয় করার কাজে ব্যবহার না করে, বরং রোগ বা বিভিন্ন ওষুধ সম্পর্কে সাধারণ কিছু ধারণা অর্জনের জন্য ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁকে ঠিক কী ধরনের প্রশ্ন করা উচিত, সে বিষয়ে একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করার কাজেও এটি বেশ সহায়ক হতে পারে। তবে বুকব্যথার মতো জটিল সমস্যা, শ্বাসকষ্ট কিংবা তীব্র জ্বরের মতো জরুরি কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই সময় নষ্ট করা চলবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরাসরি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয়। তাই মূল প্রশ্নটি এটি নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভালো নাকি মন্দ। বরং আসল প্রশ্নটি হলো, ঠিক কোথায় আমরা এর ওপর ভরসা রাখব আর ঠিক কোথায় এর ওপর নির্ভর করা থেকে বিরত থাকব।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর