নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক assaults এর ফলে স্থানীয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহ মোট ছয়জন নেতাকর্মী শারীরিক আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর তিনটার দিকে জিয়ানগর এবং চট্টগ্রাম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়।
আহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন ষাট বছর বয়সী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, চল্লিশ বছর বয়সী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন এবং সমবয়সী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি মোহাম্মদ ফারুক। এছাড়া পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী উপজেলা জাসাসের সভাপতি আল মারুফ ও একই পদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির এবং ৩৮ বছর বয়সী বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মহিউদ্দিনও এই হামলায় জখম হয়েছেন। আক্রমণকারীরা তাদের ওপর লাঠিসোঁটা দিয়ে চড়াও হয় এবং পরবর্তীতে তারা স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসালয় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে দলীয় সূত্রে জানা যায় যে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের উদ্দেশ্যে রাউজান উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা চুয়েট ক্যাম্পাস এলাকার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে নিজ গন্তব্যে ফিরে আসার সময় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে এবং লাঠিসোঁটা হাতে অতর্কিত মারধর শুরু করে।
হামলার শিকার হওয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, হামলাকারীরা রড এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে তার মাথা ও পায়ে সরাসরি আঘাত হানে। এই পাশবিক মারধরের কারণে তার মাথা ফেটে রক্তপাত হয় এবং শরীরের অন্যান্য বিভিন্ন অংশেও গুরুতর জখম সৃষ্টি হয়।
দলেরই অভ্যন্তরীণ একটি উপদল এই হামলায় জড়িত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন আনোয়ার হোসেন। তিনি আরও জানান যে, সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের এই কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে পূর্বেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। এমনকি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করা সত্ত্বেও হামলা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে রাউজান রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন জানান যে, তিনি এই ঘটনার কথা শুনেছেন এবং সেখানে দলের দুটি পক্ষের ভেতরে কিছুটা উত্তেজনা ও হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে সুনির্দিষ্টভাবে মারামারির কোনো তথ্য বা অভিযোগ সেসময়ে কেউ পুলিশ বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর