নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সম্পর্ক, প্রেম, প্রাপ্তি ও হারানোর অনুভূতি নিয়ে রচিত হয়েছে এক মনস্তাত্ত্বিক কবিতা। কবি তাঁর পংক্তিতে জীবনের বৈপরীত্য ও অনুভূতির গভীরতা তুলে ধরেছেন। যেখানে যতখানি ঢিল ছোড়া হয়, ঠিক ততখানিই ঢেউ ওঠার রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। এই কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ বা ভাবার্থ কি সাধারণের বোধগম্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
খাঁখাঁ রোদের তীব্রতা এবং শূন্যতার সঙ্গে নীলিমার তুলনা টেনে সম্পর্কের সমীকরণ মিলছে না অমিল, তা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রেমে পড়ার তীব্রতার সঙ্গে মানুষকে বোকা বনে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। স্বপ্নের একরোখা স্বভাব এবং চিরন্তন প্রথার কথা এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মধু ও বিষের সহাবস্থানের মতো মিষ্টি অনুভূতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদের কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাঘের ভয়ঙ্কর গর্জনেও শিস শোনার মতো অদ্ভুত মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনের হিসেব-নিকেশে প্রাপ্তির চেয়ে অধিক হারানোর বেদনাই এখানে বড় হয়ে উঠেছে।
মানুষ যেখানে বাস্তবে অবস্থান করছে, মনস্তাত্ত্বিকভাবে যেন ঠিক সেই জায়গাতেই সে অনুপস্থিত। তাপমাত্রার চেয়ে তিন গুণ বেশি দাহ বা কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি পংক্তিতে জোরালোভাবে এসেছে। সবার অগোচরে প্রতিনিয়ত নিজের ভেতর নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বা খুন হওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কবি নিজের অস্তিত্ব এবং অপর পক্ষের উপস্থিতির পরিমাপ করতে চেয়েছেন। আমি যতটুকু, তুমি কি ঠিক ততখানিই? আর তুমি যতটুকু, তা কি আমি সত্যিই জানি? এমন আত্মজিজ্ঞাসা ও রহস্যের মধ্য দিয়েই কবিতার মূল ভাব সমাপ্ত হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর