ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এআই দিয়ে গবেষণাপত্র রচনা: স্বত্বাধিকার ও নীতি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
এআই দিয়ে গবেষণাপত্র রচনা: স্বত্বাধিকার ও নীতি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ব্লগ ও কলাম থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র রচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত ব্যবহার বর্তমানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের মতো সাবলীল ভাষায় লেখার সক্ষমতা অর্জনের কারণে এআই টুল দিয়ে প্রস্তুত করা গবেষণার স্বত্বাধিকার এবং দায়বদ্ধতার নীতিমালা পরিবর্তনের তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই বিগত মাসে জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানসংক্রান্ত শত শত গবেষণাপত্র সবার সামনে এনেছে। আলোচিত এই গবেষণাপত্রগুলোতে কোনো মানুষের নাম রাখা হয়নি বরং একমাত্র লেখক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।

যদিও একাধিক গণিতবিদ ও গবেষক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রকাশিত এসব গবেষণাপত্রের বেশ কিছু প্রমাণ ও প্রক্রিয়া তাঁদের বোধগম্যের বাইরে রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেসের নীতিবিশেষজ্ঞ বা বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকা কোনো বিষয়ের নৈতিক দায়দায়িত্ব মানুষ বহন করতে পারে না।

একাডেমিক বিভিন্ন জার্নাল এবং প্রি-প্রিন্ট সার্ভারের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে লেখক হিসেবে যুক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব মেডিক্যাল জার্নাল এডিটরসের নীতিমালা অনুযায়ী গবেষণার নকশা তৈরি, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং লেখার মান যাচাইয়ের পূর্ণ দায়িত্ব নির্দিষ্ট লেখককে নিতে হবে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের বায়োএথিসিস্ট ব্রায়ান আরপ এই বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান যুগের কারণে লেখকত্বের প্রচলিত ধারণাগত পরিধি পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পন্ন গবেষণার ক্ষেত্রে অন্তত একজন মানুষকে প্রত্যয়নকারী লেখক বা সার্টিফায়িং অথর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি, যিনি সামগ্রিক ফলাফল যাচাই করবেন।

আইসিএমজেই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বায়োএথিসিস্ট ডেভিড রেসনিক আরও জানান যে, গবেষকরা যদি এআইয়ের কাজের প্রক্রিয়া অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন, তবে সেই গবেষণাপত্র প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

একজন প্রকৃত দায়িত্বশীল বিজ্ঞানী হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি ধাপে ঠিক কী কাজ করছে, তা নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।

পিএলওএস সাময়িকীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভেরোনিক কিয়ারমার জানিয়েছেন যে, গবেষণামুলক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুনির্দিষ্ট ব্যবহার সঠিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তবে কেবল বাক্যগঠন বা বানান সংশোধনের মতো প্রাথমিক কাজে যদি অতিরিক্ত প্রকাশ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়, তবে তা অর্থহীন পরিশ্রমে রূপ নেবে।

সামনে আসা এই গবেষণাপত্রগুলোর বিপরীতে কোনো ধরনের একাডেমিক কৃতিত্ব বা স্বীকৃতি দাবি করছে না ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ।

উল্টো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রস্তুত করা গবেষণাপত্রগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা ও অনুধাবন করার জন্য বিজ্ঞানীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ