নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাতীয় বিভিন্ন স্বার্থ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের বিশেষ ধরনের পাসপোর্ট দেয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে হয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, এই ধরনের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের একাধিক কৌশলগত স্বার্থ ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়গুলো গভীরভাবে জড়িত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন শুরুপর্যায়ে এই বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করার বিষয়টি এড়িয়ে চলার বা ঝুলিয়ে রাখার মানসিকতা পোষণ করেছিল।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবের বিশাল শ্রমবাজারে যাতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই আশঙ্কাসহ নানাবিধ জটিল দিক গভীরভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হতে হয়েছে।
এর আগে, দেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এপ্রিল মাসের দিকে সচিবালয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক সৌজন্যমূলক বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ।
ওই দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতকালে সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত মোট ৬৯ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের অনুকূলে বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করার জোরালো দাবিটি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
সৌদি রাষ্ট্রদূত সেই বৈঠকে এই গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন এবং কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল।
বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তখন গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন যে, যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে সর্বমোট ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের আওতায় আনা হয়েছে।
বাকি যেসব নাগরিক রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত পাসপোর্ট দেয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলকে সুনির্দিষ্টভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলেও মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
যাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে কিংবা যারা নির্ধারিত শর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে পূরণ করতে পেরেছেন, মূলত কেবল সেই সমস্ত ব্যক্তিদেরই দ্রুততার সঙ্গে পাসপোর্ট দেয়ার কাজ চালানো হচ্ছে।
এদিকে গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, মিয়ানমার থেকে আসা এই রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণকৃত বিশেষ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও বিশেষ সিরিয়াল নম্বর সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট গ্রহীতাদের আঙুলের অনন্য ছাপ, চোখের আইরিশ এবং মুখমণ্ডলের সুনির্দিষ্ট ছবিসহ যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দেশের মূল জাতীয় তথ্যভান্ডারে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে।
এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে দেশের বিমানবন্দরসহ দেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই বিশেষ পাসপোর্টধারীদের খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, ভবিষ্যতে এই ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করতে না পারেন, সেই foolproof ব্যবস্থাও এই প্রক্রিয়ায় সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
সর্বোপরি, এই বিশেষ পাসপোর্টের অফিশিয়াল নথিতে জাতীয়তার নির্ধারিত ঘরে স্পষ্ট অক্ষরে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস ও তথ্যটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর