নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন হওয়ার জন্য নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার আটান্ন জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নতুন ভর্তিকৃতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাংশেই কেবল দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য গেছেন। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সীমার ভেতরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে শুরু করেছেন দুই শতাধিক একত্রিশ জন।
অন্যদিকে, রাজধানী উত্তরের কর্পোরেট এলাকার বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে নতুন রোগী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন একশর বেশি মানুষ। সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি হলো একশো আটচল্লিশ জন। এছাড়া, দুই সিটি কর্পোরেশনের ভৌগোলিক সীমার বাইরে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন শতাধিক রোগী। সুনির্দিষ্ট হিসাবে এই সংখ্যাটি তিনশ তেষট্টি।
বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানী বাদে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনা এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ হাসপাতালে গিয়েছেন। এই অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন আড়াই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী, যা দুইশ তিপ্পান্ন জনে দাঁড়িয়েছে।
খুলনার ঠিক পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে দুই শতাধিক ব্যক্তি নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সংখ্যাটি হলো দুইশ তেত্রিশ জন। পাশাপাশি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের চিকিৎসালয়গুলোতেও নতুন রোগী ভর্তির হার বেশ লক্ষ্মীনীয়, যা দুইশ বিশ জনে পৌঁছেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে গেছেন। এই সংখ্যাটি একশ বিরানব্বই জন। এছাড়া, উত্তর জনপদের রংপুর বিভাগে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা একশ পার না হলেও বেশ কাছাকাছি রয়েছে, যা নিরানব্বই জন।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নতুন রোগীর সংখ্যাও প্রায় একই রকম রয়েছে। এই অঞ্চলে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন বিরানব্বই জন। তুলনামূলকভাবে সিলেট বিভাগে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির হার সবচেয়ে কম রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে নতুন রোগীর সংখ্যা মাত্র ছাব্বিশ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বাত্মক তথ্যপঞ্জি অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু অর্থাৎ পয়লা জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সুনির্দিষ্টভাবে এই মোট রোগীর সংখ্যা এক লাখ চৌদ্দ হাজার দুইশ একান্ন জনে গিয়ে ঠেকেছে।
আক্রান্তদের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে ছাড়পত্র প্রাপ্তদের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ সাত হাজার আটশ পঁয়ষট্টি জনে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর