নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নওগাঁর গোবিন্দপুর গ্রামে পশুপালন খাতে এক অভিনব পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, যেখানে এখন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গরুর খামার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূর হোসেন জানিয়েছেন যে, গরুর খামারে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি প্রযুক্তির প্রয়োগ গবাদিপশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক বা প্রচলিত খামারগুলোতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও হিট স্ট্রেসের মতো সমস্যার কারণে পশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো, যা ডেইরি খামারিদের সবসময় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিত।
গোবিন্দপুর গ্রামের উদ্যোক্তা ও খামারি নুর এ আলম বর্তমানে এই আধুনিক ব্যবস্থার কল্যাণে একটি দারুণ সফল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফের সার্বিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি এটিই প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে খামারের সকল ঝুঁকি সফলভাবে কমিয়ে একে একটি লাভজনক ও নিরাপদ ব্যবসায় রূপ দেওয়া পুরোপুরি সম্ভব।
অন্যদিকে, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন যে, বর্তমান সময়ে গবাদিপশু পালনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তিনি ব্যাখ্যা করে জানান, প্রথাগত বা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে পরিবেশের তাপমাত্রা কিংবা হিট স্ট্রেসের নেতিবাচক প্রভাবে খামারিরা প্রায়শই বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন।
নওগাঁর গোবিন্দপুর গ্রামের এই খামারটিতে আইওটি প্রযুক্তির অত্যন্ত সফল ও কার্যকরী প্রয়োগ দেশের সামগ্রিক ডেইরি খাতকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিটি খামারকে প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি সহায়তা এবং যথাযথ পরামর্শ প্রদান করার জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর