ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক দর্শকের মন জয় করে নেটফ্লিক্সের শীর্ষে তুর্কি সিরিজ নট আ স্ট্রেঞ্জার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
আন্তর্জাতিক দর্শকের মন জয় করে নেটফ্লিক্সের শীর্ষে তুর্কি সিরিজ নট আ স্ট্রেঞ্জার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিশ্বজুড়ে বিনোদন দুনিয়ায় বেশ কটি বছর ধরে জোরালো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তুর্কি কনটেন্ট। আমাদের দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও বাংলায় ডাব করা তুর্কি ধারাবাহিকগুলো দারুণ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট দুনিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাগুলোতেও এসব নাটকের রিলস বা ছোট ক্লিপ বেশ ভাইরাল হতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুর্কি প্রযোজনার এই আকাশছোঁয়া ক্রেজ বা উন্মাদনা পুরোপুরি ক্যাশ করতে বা কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে জনপ্রিয় সব ওটিটি জায়ান্ট।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু তুর্কি সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ। এই ধারায় সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলেছে এবং দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে। মের্ত বায়কালের পরিচালনায় নির্মিত এই প্রজেক্টটি রিলিজ পাওয়ার পর প্রথম সপ্তাহেই গ্লোবাল নন-ইংলিশ বা ইংরেজি ব্যতীত অন্য ভাষার কনটেন্ট তালিকার একদম শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহেই সিরিজটি ১ কোটি ৪৩ লাখ বা চৌদ্দ কোটি ত্রিশ লাখ ভিউয়ের অবিশ্বাস্য মাইলফলক ছুঁয়েছে।

মাতৃত্ব ও শিল্পীসত্তার দ্বন্দ্ব নিয়ে আবর্তিত হয়েছে সিরিজটির মূল প্লট বা কাহিনি যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ফুন্দা নামের এক চিত্রশিল্পী, যে ভূমিকায় প্রাণ ঢেলেছেন এলচিন সাঙ্গু। সন্তান জন্মদানের পর থেকে সংসারের নানা ঝামেলা ও সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে ফুন্দা তাঁর পেশাগত জীবন বা চিত্রশিল্প থেকে বহু দূরে সরে যেতে বাধ্য হন। নিজের ফেলে আসা পুরোনো সত্তা ও সৃজনশীল দুনিয়ায় কামব্যাক করার তীব্র সুপ্ত বাসনা থাকলেও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার নিষ্ঠুর চাপে তা আর হয়ে ওঠে না।

অবশেষে বাধ্য হয়েই নিজের অবর্তমানে শিশুকন্যাকে দেখাশোনা করার জন্য একজন আয়া বা কেয়ারটেকার রাখার সিদ্ধান্ত নেন ফুন্দা। আর এই গৃহকর্মী নিয়োগের সূত্র ধরেই তাঁর পারিবারিক পরিসরে পা রাখে রহস্যময় তরুণী নাজলি, যার চরিত্র রূপায়ন করেছেন মেলিস সেজেন। ধীরে ধীরে সেই নতুন আয়ার ওপর নানা কাজে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ব্যস্ত গৃহকর্ত্রী ফুন্দা। কিন্তু সব ওলটপালট হয়ে যায় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার, যাঁর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওজান দোলুনাই, একদিন কাজ থেকে বাড়ি ফিরে আয়া নাজলিকে দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ তাঁকে চিনতে পারেন।

দর্শক ও সমালোচকদের চমকে দিয়ে জানা যায় যে অতীতে সেই আয়ার সঙ্গে বিবাহিত ইলকারের এক ধরনের ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্বামীর এই গোপন অতীতের কথা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে সামনে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে ফুন্দার গোছানো সংসারের সব শান্তি ও স্বস্তি চিরতরে উবে যায়। এরপর থেকেই স্বামীর ফেলে আসা অতীত, নিজের তিলে তিলে গড়া সংসার আর দাম্পত্যে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে গভীর ভাবনায় ডুবে যান তিনি। পাশাপাশি দর্শকের মনেও প্রশ্ন জাগে যে নাজলি কি শুধুই সাধারণ একজন চাকরির সন্ধানে এই বাড়িতে প্রবেশ করেছে, নাকি তাঁর অন্য কোনো গভীর ও অসৎ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।

এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ সিরিজের অত্যন্ত নিখুঁত ও চমৎকার একটি চিত্রনাট্য। যদিও নাটকের মূল গল্পটি বহুচেনা, তবুও এর নির্মাতারা দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় টানটান রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার আবহ তৈরি করতে পেরেছেন। একটি আপাত সুখী ও নিখুঁত দাম্পত্য জীবনে কীভাবে হঠাৎ বিশ্বাসের গভীর সংকট তৈরি হতে পারে, তার চিত্রায়ন অত্যন্ত সাবলীল। চিত্রনাট্যের গাঁথুনি এতটাই শক্তিশালী যে দর্শকরা প্রতি মুহূর্তে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন পরের এপিসোডে বা পর্বে ঠিক কী ঘটতে চলেছে তা দেখার জন্য।

বিশেষ করে রহস্যে ঘেরা নাজলি চরিত্রটিকেও অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই তরুণী যত বেশি দ্রুত ওই পরিবারের সব সদস্যের আস্থাভাজন ও ভরসার পাত্রী হয়ে উঠতে থাকেন, তাঁর অন্ধকার অতীত সম্পর্কে জানার কৌতূহলও দর্শকদের মনে ততোই বহুগুণ বেড়ে যায়। দর্শকরা কেবল এর পরের দৃশ্য বা ঘটনা কী হবে তা জানতে চান না, বরং বিভিন্ন চরিত্রের অদ্ভুত ও রহস্যময় আচরণের ঠিক আড়ালে আসল সত্য কী লুকিয়ে রয়েছে, তা গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন।

তবে বিশ্ববাসীর নজর কাড়লেও আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে সিরিজটি মিশ্র ধরনের প্রতিক্রিয়া কুড়িয়েছে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল ডিসাইডারের বিশদ পর্যালোচনায় এই সিরিজের প্রথম পর্বের নান্দনিক দিকের বেশ প্রশংসা করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধান চরিত্র ফুন্দার ভেতরে চলতে থাকা মানসিক টানাপোড়েন ও চাপ, নিজের পুরোনো শিল্পীসত্তায় ফিরে যাওয়ার তীব্র হাহাকার এবং দুই নারীর পারস্পরিক সম্পর্কের লুকোচুরিকে গল্প এগিয়ে নেওয়ার অত্যন্ত কার্যকর উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে সব সমালোচক আবার এই সৃষ্টি নিয়ে সমানভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। যেমন তুরস্কের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর খতিয়ান ও পর্যালোচনায় এই গল্পের কিছু জায়গায় অস্পষ্টতা এবং একই বিষয় বারবার টেনে এনে ব্যাখ্যা করার বিরক্তিকর প্রবণতা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছে। ওই দৈনিকের মূল মূল্যায়ন অনুযায়ী, গল্পটির ভেতরে দুর্দান্ত কিছু সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকলেও এর চিত্রনাট্য শেষ পর্যন্ত সবসময় সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে পরিপূর্ণ বিচার করতে পারেনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষার্থীরা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে : মাহদ

শিক্ষার্থীরা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে : মাহদ