ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উপজেলায় শয্যা বৃদ্ধি ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
উপজেলায় শয্যা বৃদ্ধি ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম অর্জনে জাপানের সহায়তা চেয়েছে রাষ্ট্র, যা দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মফস্বল অঞ্চলের সাধারণ নাগরিক, নারী ও শিশুদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে নীতিনির্ধারক মহল।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসালয়গুলোতে মাত্র পঞ্চাশটি করে শয্যা রয়েছে। आगामी পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী এই হাসপাতালগুলোর শয্যাক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেড় শ তে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে রক্ত পরিশোধন বা ডায়ালাইসিস সেবা চালু করার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ হাতে নেওয়া হবে। এর ফলে পল্লী অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে ভালো চিকিৎসার আশায় জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে ছোটাছুটি করতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মহানগরী ও বড় শহরগুলোর প্রধান চিকিৎসালয়গুলোতে রোগীদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ রয়েছে বলে জানানো হয়। প্রান্তিক জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব হলে কেন্দ্রগুলোতে চাপ হ্রাস পাবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীরা অতি সহজে উন্নত চিকিৎসা লাভ করতে পারবেন।

নতুন করে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী মাঠে নামানোর পরিকল্পনা উন্মোচন করে জানানো হয় যে, কেবল রোগ নিরাময় নয় বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরও সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার। এই মহৎ উদ্দেশ্যে পল্লী অঞ্চলের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে এক লক্ষ কর্মী নিয়োগের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই বিশাল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে অন্তত আংশিক বা আশি শতাংশ পদে নারী কর্মী নিয়োগের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা, সুষম পুষ্টি এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতন করে তুলবেন।

নাগরিকদের সুস্থ ও সবল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমাজের বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এর ফলে সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভাষাভিত্তিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জাপানের বাজারে দেশের অবস্থানকে স্থায়ী ও সুদৃঢ় করতে এই দক্ষতার বিকল্প নেই।

কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, জাপানি ভাষার যথাযথ শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়ে জনশক্তি পাঠানোর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে এই পূর্ব এশীয় দেশের বাজারে আমাদের কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা অটুট রাখা সম্ভব হবে।

ভাষাগতভাবে দক্ষ প্রবাসীদের দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানসিক আগ্রহের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তবে তাঁদের মেধা কাজে লাগানোর পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসে বসবাস করলেও প্রত্যেকেই এই মাতৃভূমির সন্তান এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রত্যেকেরই অনন্য ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত এবং জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।

জাপান জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্