ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ কি ডিভি লটারিতে ফিরছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
বাংলাদেশ কি ডিভি লটারিতে ফিরছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি পুনরায় চালুর গুঞ্জনে বাংলাদেশিদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তারা কি এবার এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নের সরাসরি ইতিবাচক জবাব দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো ডিভি-২০২৭ সংস্করণের জন্য দেশভিত্তিক যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তাই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুযোগ পাবে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আদালতের বিশেষ নির্দেশের ফলে লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পথ প্রশস্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতার সনদ পেয়ে গেছে। ঠিক কোন কোন রাষ্ট্রের নাগরিকরা আসন্ন কার্যক্রমে আবেদন করার বৈধতা পাবেন, তা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই কেবল স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।

বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফোর্বসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। এই ঘোষণা আসার পরই মূলত ২০২৭ সালের ডিভি কর্মসূচিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ বেশ অনেক বছর ধরেই এই ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি কর্মসূচির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষিত দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট দেশ থেকে যদি ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তবে সেই দেশের নাগরিকেরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারান।

বাংলাদেশি নাগরিকরা সর্বশেষ ২০১২ সালের কাছাকাছি সময়ে ডিভি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এই দেশকে ডিভি কর্মসূচি থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়।

মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সরকারি নথিপত্রেও ধারাবাহিকভাকে বাংলাদেশকে পরবর্তী বছরগুলোর ডিভি লটারির অযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের ডিভি কর্মসূচির ক্ষেত্রেও প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের দলের মধ্যেই অবস্থান করছিল।

এদিকে ২০১৪ সালের ডিভি সংক্রান্ত নির্দেশিকাটিতেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল যে, বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে যেসব দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গেছে, তাদের নাগরিকরা এই লটারিতে অংশ নিতে পারবে না এবং সেই নিষিদ্ধ তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত ছিল।

তা সত্ত্বেও আশার কথা হলো, এই যোগ্যতার মানদণ্ড বা শর্তগুলো প্রতি বছর পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যদি অভিবাসনের সামগ্রিক সংখ্যা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে নেমে আসে, তবে সেই দেশের নাগরিকেরা পরবর্তীতে ডিভি কর্মসূচির জন্য পুনরায় যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...