নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহে মানববসতি গড়ার স্বপ্ন দেখেন, রকেট নির্মাণ করেন এবং টেসলা নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যান। তবে প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় বাংলাদেশ যে তাঁকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে দিয়েছে, সেই খবর কি তিনি আদৌ রাখেন? তাঁর একটি উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করতে যেখানে কোটি কোটি ডলারের গবেষণা প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের দেশের রকেট রিকশাকে আকাশে ওড়ানোর জন্য কেবল রাস্তার একটি মাঝারি আকারের খানাখন্দই যথেষ্ট। ইলন মাস্ক তো কেবল দিবাস্বপ্নই দেখেন, অথচ আমাদের এই টমটম গাড়িগুলো তো প্রতিদিন নিয়মিতভাবেই আকাশে ওড়ে।
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় রকেট রিকশা নামক এই বাহনগুলোতে উঠলেই খুব সহজে টের পাওয়া যায় যে, মহাকাশ ভ্রমণের জন্য মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় ভর্তি হওয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। রাজধানীর বেহাল রাস্তার খানাখন্দে টমটমের তীব্র ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা এমন অদ্ভুতভাবে শূন্যে ভেসে ওঠেন যে, এক মুহূর্তের জন্য তাদের মনে হয় তারা বুঝি সত্যি কোনো অত্যাধুনিক স্পেসশিপে চড়ে বসেছেন। ঠিক কয়েক সেকেন্ডের জন্য এমন ভ্রম তৈরি হয় যেন পৃথিবীর আপন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কোথাও ছুটিতে চলে গেছে। তবে সফল অবতরণের পর অবশ্য মর্মে মর্মে টের পাওয়া যায় যে, মহাকাশযাত্রা শেষ হলেও শরীরের কোমরটা ঠিকই পৃথিবীর মাটিতেই পড়ে রয়েছে।
এই রকেট রিকশাগুলো মূলত আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অত্যন্ত কম বাজেটের নিজস্ব টেসলা। এই বাহনগুলোকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ করে মডিফাই করে আকাশে ওড়ানোর প্রয়োজন হয় না, এগুলো নিজেদের মতো করেই দিব্যি ওড়ে। তা ছাড়া ইলন মাস্ক কি এটা জানেন যে, এ দেশে এই পঙ্খিরাজ সদৃশ বাহনগুলো চালাতে গেলে চালকদের সামনে কেবল রাস্তার বড় বড় গর্তই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়? রাস্তায় চলতে গিয়ে তাদের যে ঠিক কতবার মাথার ওপর দিয়ে ঝুলন্ত জালের মতো ছড়িয়ে থাকা কারেন্টের তারে ফেঁসে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হয়, তার সঠিক হিসাব কে বা রাখে?
আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী টমটমের রয়েছে আবার কিছু একদম বিশেষ ধরনের দারুণ ফিচার। এ বিষয়ে এক চালক অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, মামা, এই গাড়ি পুরোপুরি হাওয়ার ওপর চলে, এর জন্য কোনো রকম পেট্রল কিংবা ডিজেলের প্রয়োজন পড়ে না। ইলন মাস্ক যেখানে মানুষকে এই পৃথিবীর বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেন, সেখানে আমাদের এই টমটমগুলো প্রতিদিন নিয়মিতভাবে যাত্রীকে সিটের ওপর থেকে শূন্যে তুলে আবার নিরাপদে এই মাটিতেই নামিয়ে আনে।
অবশ্য এই অদ্ভুত আকাশযাত্রার সবচেয়ে শেষ পরিণতিও কিন্তু কম রোমাঞ্চকর মোটেও নয়। কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছানোর পর যখন চূড়ান্ত ভাড়ার হিসাব মেটানোর সময় আসে, তখন চালক মামা একচিলতে মুচকি হেসে বলবেন, মামা গরিব মানুষ, যাওয়ার সময় আরও দশ টাকা বাড়িয়ে দিয়েন। কারণ তীব্র যানজট আর মাথার ওপরের বিপজ্জনক তারের জালের এই অদ্ভুত শহুরে দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে এই সামান্য বাড়তি দশ টাকার আর্থিক মূল্য ইলন মাস্কের কোটি ডলারের বিশাল বাজেটের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর